Education makes a door to bright future

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education is a way to success in life

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education is a best friend goes lifelong

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education makes a person a responsible citizen

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education is a key to the door of all the dreams

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Monday, November 8, 2021

আলবার্ট আইনস্টাইন জীবনী – Albert Einstein Biography in Bengali

 

আলবার্ট আইনস্টাইন জীবনী – 

Albert Einstein Biography in Bengali




আলবার্ট আইনস্টাইন জীবনী – Albert Einstein Biography in Bengali : আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং ভর-শক্তি বিখ্যাত সমীকরণ সূত্র E = mc2 আবিষ্কারের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত।

 বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । আলবার্ট আইনস্টাইন জীবনী – Albert Einstein Biography in Bengali বা আলবার্ট আইনস্টাইনের আত্মজীবনী বা আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein Jivani) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আলবার্ট আইনস্টাইন কে ছিলেন ? Who is Albert Einstein ?

আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) ছিলেন জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী। আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) মূলত আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের দুটি স্তম্ভের একটি) এবং ভর-শক্তি সমতুল্যতার সূত্র, E = mc2 ( যা “বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরণ” হিসেবে খেতাব দেওয়া হয়েছে ) আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।

বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবনী – Albert Einstein Biography in Bengali :

নাম (Name)আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein)
জন্ম (Birthday)১৪ মার্চ ১৮৭৯ (14th March 1879)
জন্মস্থান (Birthplace)উল্‌ম, জার্মানি
অভিভাবক (Perents)/ পিতা ও মাতা হিমার আইনস্টাইন (পিতা)

পলিন কোচ (মাতা)

দাম্পত্য সঙ্গী (Spouse)মিলেভা মেরিক ( ১৯০৩ সালে )

এলসা লভেন্থাল ( ১৯১৯ সালে )

নাগরিকত্বজার্মান, সুইজারল্যান্ডীয়, অস্ট্রিয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
উপাধিনোবেল বিজয়ী
সন্মানকোপলি পদক, ম্যাক্স প্যালাঙ্ক মেডেল, 

গ্রেট প্রাইজের শতবর্ষ (১৯৯৯)

কর্মক্ষেত্রপদার্থবিজ্ঞান, দর্শন
মৃত্যু১৮ এপ্রিল ১৯৫৫ (18th April 1955)

আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম – Albert Einstein Birthday :

 ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ ই মার্চ জার্মানীর ব্যাভরিয়া অঞ্চলের ছােট একটি শহর উলমে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের শৈশবকাল – Albert Einstein Childhood :

সকালটা দেখেই বােঝা যায় সারাটা দিন কেমন , যাবে ‘ — এই প্রবাদ বাক্যের অযথার্থতা প্রমাণিত হয়ে যায় এই মনীষীর জীবনী পর্যালােচনা করলে । কারণ ছােটবেলা থেকে তিনি পরবর্তীকালে কোনােভাবেই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীহবার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হননি । বরং ছােটবেলায় তিনি হাবাগােবা ধরনের এবং তােতলা ছিলেন । বাবা ছেলেকে নিয়ে হতাশ হলেও মা আশা করতেন ছেলে একদিন অধ্যাপক হবে ।

আলবার্ট আইনস্টাইনের পিতামাতা – Albert Einstein Parents :

 আলবার্ট আইনস্টাইনের বাবা হার্মান আইনস্টাইনের একটা ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির দোকান ছিলাে । মা পলিন কোচ খুব ভালাে পিয়ানাে বাজাতে পারতেন । আইনস্টাইন মায়ের কাছে বেহালা বাজানাে শেখেন । পরবর্তীকালে তিনি যে তিনটি বিষয়ে যথার্থবুৎপত্তি অর্জন করেন , যথা অংক , পদার্থবিদ্যা এবং বেহালা বাজানাে , তার মধ্যে বেহালা বাজানাে শেখার জন্য মায়ের কাছে ঋণী ।

আলবার্ট আইনস্টাইনের শিক্ষাজীবন – Albert Einstein Education Life :

ছােটবেলা থেকেই আলবার্ট আইনস্টাইন এমন সব বই পড়তেন , যেগুলি পড়লে চিন্তা করতে হয় । চিন্তাশক্তি বাড়ে । মাত্র তেরাে বছর বয়সেই তিনি কান্টের দর্শনের বইগুলাে সব পড়ে ফেলেন । তবে স্কুলে ভালাে ছাত্র হিসাবে তার তেমন সুনাম ছিলাে না । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের কর্মজীবন – Albert Einstein Work Life :

 ১৯০০ সালে তিনি সুইস নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন । ১৯০১ সালে চাকরি যােগাড় করার আগে তিনি মিলেভা নামে এক সহপাঠিনী মেয়েকে বিয়ে করেন । ১৯০২ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের পেটেন্ট অফিসে একটা কেরানির চাকরি পান । তিনি বিজ্ঞানচর্চায় মনােনিবেশ করার সুযােগ পেলেন । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের প্রথম সূত্র আবিষ্কার – Albert Einstein First Law :

তিনি পদার্থবিদ্যায় তার গবেষণালব্ধ ফলাফল সমৃদ্ধ তিনটি মৌলিক প্রবন্ধ পাঠালেন । বার্লিনের একটা বিখ্যাত পত্রিকায় । সেগুলাে একে একে পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সারা ইউরােপে আলােড়ন সৃষ্টি করে । ওখানকার অনেক পদার্থবিজ্ঞানীকেই অনন্যসাধারণ এক তত্ব দিলেন আলাের গতি সম্বন্ধে । তিনি বললেন , আলাের গতি অপরিবর্তনীয় এবং ধ্রুব । প্রতি সেকেন্ডে গতি ১,৮৬,০০০ মাইল । এই তত্ব থেকেই পরবর্তীতে আইনস্টাইন পদার্থের শক্তিতে রূপান্তর সম্পর্কিত তার বিখ্যাত সূত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হন । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের বিবাহ জীবন – Albert Einstein Marriage Life :

 ১৯১২ সালে আইনস্টাইন সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অধ্যাপক পদে যােগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পান । ১৯১৩ সালে বার্লিনের অধ্যাপকহয়ে তিনি সেখানে যেতে চাইলেন , কিন্তু স্ত্রী মেলেভা জুরিখ ছেড়ে যেতে চাইলেন না । তখন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলাে । দুই পুত্রসন্তান আলবার্ট এবং এডওয়ার্ডকেজুরিখে রেখে আইনস্টাইন বার্লিনে গেলেন । এরপর ১৯১৭ সালে তিনি তার খুড়তুতাে বােন এলসাকে বিয়ে করেন । এলসা বিধবা ছিলেন তিনি ১৯৩৬ সালে । আমৃত্যু পর্যন্ত আপনভােলা স্বামীকে সংসার জীবনে সুখি রাখার আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের নোবেল পুরস্কার – Albert Einstein Novel Prize :

  ১৯২১ সালে ফোটনতত্ত্বের ভিত্তিতে আলােক -তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দানের জন্য তাকে পদার্থবিদ্যায় নােবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ।

 ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলাে । তিনি শুনতে পেলেন জার্মানী আণবিক বােমা তৈরির গবেষণা চালাচ্ছে । বিশ্ববাসীর শান্তির জন্য তিনি তার বিখ্যাত তত্ত্বের সাহায্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে পারমাণবিক বােমা তৈরির পরামর্শ দিলেন । পরবর্তীকালে জাপানের হিরােশিমা – নাগাসাকিতে পারমাণবিক বােমা নিক্ষিপ্ত হলে তার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আইনস্টাইন পাপবােধে আক্রান্ত হন । আজীবন তিনি এই পাপবােধে আত্মগ্লানি ভােগ করে গেছেন । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যু – Albert Einstein Death :

 ১৯৫৫ সালের ১৮ ই এপ্রিল এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী ৭৬ বছর । বসে পরলােক গমন করেন ।

আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Albert Einstein Biography in Bengali (FAQ) :

  1. আলবার্ট আইনস্টাইন কবে জন্ম গ্রহণ করেন ?

Ans : ১৪ মার্চ ১৮৭৯ সালে ।

  1. আলবার্ট আইনস্টাইনের পিতার নাম কী?

Ans : হিমার আইনস্টাইন ।

  1. আলবার্ট আইনস্টাইনের মাতার নাম কী?

Ans : পলিন কোচ ।

  1. আলবার্ট আইনস্টাইন কবে নোবেল পুরস্কার পান?

Ans : ১৯২১ সালে ।

  1. আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম কোথায় হয়?

Ans : উল্‌ম, জার্মানি তে ।

  1. আলবার্ট আইনস্টাইনের স্ত্রীর নাম কী?

Ans : মিলেভা মেরিক ও পরে এলসা লভেন্থাল ।

  1. আলবার্ট আইনস্টাইনের পিতা কী করতেন ?

Ans : হার্মান আইনস্টাইনের একটা ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির দোকান ছিলাে । 

  1. আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যু কবে হয় ।

Ans : ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল ।


আরও প্রেম দিও - তসলিমা নাসরিন

 

আরও প্রেম দিও
- তসলিমা নাসরিন



আরও প্রেম দিও আমাকে, এত অল্প প্রেমে আমার হয় না, আমি পারি না।
আরও প্রেম দিও, বেশি বেশি প্রেম দিও
যেন আমি রেখে কুলিয়ে উঠতে না পারি,
যেন চোখ ভরে,
হৃদয়ের সবকটি ঘর যেন ভরে যায়
যেন শরীর ভরে, এই তৃষ্ণার্ত শরীর।
প্রেম দিতে দিতে আমাকে অন্ধ করে দাও,
বধির করে দাও, আমি যেন শুধু তোমাকেই দেখি,
কোনও ঘৃণা, কোনও রক্তপাত যেন আমাকে দেখতে না হয়,
আমি যেন আকাশপার থেকে ভেসে আসা তোমার শুভ্র শব্দগুলো শুনি,
কোনও বোমারু বিমানের কর্কশতা, কারও আর্তনাদ, চিৎকার আমার কানে যেন না
পৌঁছোয়।
দীর্ঘকাল অসুখ আর মৃত্যুর কথা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত
দীর্ঘকাল প্রেমহীনতার সঙ্গে পথ চলে আমি ক্লান্ত,
আমাকে শুশ্রুষা দাও, স্নান করিয়ে দাও তোমার শুদ্ধতম জলে।


যদি ভালো না বাসো, তবে বোলো না কিন্তু যে ভালোবাসো না,
মিথ্যে করে হলেও বোলো যে ভালোবাসো,
মিথ্যে করে হলেও প্রেম দিও,
আমি তো সত্যি সত্যি জানবো যে প্রেম দিচ্ছ,
আমি তো কাঁটাকে গোলাপ ভেবে হাতে নেব,
আমি তো টেরই পাবো না আমার আঙুল কেটে গেলে কাঁটায়,
রক্ত শুষে নেবে আঙুল থেকে, এদিকে ভাববো বুঝি চুমৃ খাচ্ছে!।


প্রেম দিও, যত প্রেম সারাজীবনে সঞ্চয় করেছো তার সবটুকু,
কোথাও কিছু লুকিয়ে রেখো না।
আমার তো অল্পতে হয় না, আমার তো যেন তেন প্রেমে মন বসে না,
উতল সমুদ্রের মত চাই, কোনওদিন না ফুরোনো প্রেম চাই,
কলঙ্কী কিশোরীর মত চাই,
কাণ্ডজ্ঞানহীনের মত চাই।
পাগল বলবে তো আমাকে? বলো।


পারো তো ধর্ষণ করো-তসলিমা নাসরিন এর বিখ্যাত কবিতা

 পারো তো ধর্ষণ করো




আর ধর্ষিতা হয়ো না, আর না
আর যেন কোনও দুঃসংবাদ কোথাও না শুনি যে তোমাকে ধর্ষণ করেছে
কোনও এক হারামজাদা বা কোনও হারামজাদার দল।
আমি আর দেখতে চাই না একটি ধর্ষিতারও কাতর করুণ মুখ,
আর দেখতে চাই না পুরুষের পত্রিকায় পুরুষ সাংবাদিকের লেখা সংবাদ
পড়তে পড়তে কোনও পুরুষ পাঠকের আরও একবার মনে মনে ধর্ষণ করা ধর্ষিতাকে।
ধর্ষিতা হয়ো না, বরং ধর্ষণ করতে আসা পুরুষের পুরুষাঙ্গ কেটে ধরিয়ে দাও হাতে,
অথবা ঝুলিয়ে দাও গলায়,
খোকারা এখন চুষতে থাক যার যার দিগ্বিজয়ী অঙ্গ, চুষতে থাক নিরূপায় ঝুলে থাকা
অণ্ডকোষ, গিলতে থাক এসবের রস, কষ।
ধর্ষিতা হয়ো না, পারো তো পুরুষকে পদানত করো, পরাভূত করো,
পতিত করো, পয়মাল করো
পারো তো ধর্ষণ করো,
পারো তো ওদের পুরুষত্ব নষ্ট করো।
লোকে বলবে, ছি ছি, বলুক।
লোকে বলবে এমন কী নির্যাতিতা নারীরাও যে তুমি তো মন্দ পুরুষের মতই,
বলুক, বলুক যে এ তো কোনও সমাধান নয়, বলুক যে তুমি তো তবে ভালো নও
বলুক, কিছুতে কান দিও না, তোমার ভালো হওয়ার দরকার নেই,
শত সহস্র বছর তুমি ভালো ছিলে মেয়ে, এবার একটু মন্দ হও।

চলো সবাই মিলে আমরা মন্দ হই,
মন্দ হওয়ার মত ভালো আর কী আছে কোথায়!





তসলিমা নাসরিনের শ্রেষ্ঠ গল্প 'সেক্স বয়'

তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট, ১৯৬২) বাংলাদেশের একজন সাহিত্যিক ও চিকিৎসক। বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করে তসলিমা এই শতকের শেষের দিকে নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি তাঁর রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী উগ্র মতবাদ প্রচার করায় ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের রোষানলে পড়েন ও তাঁদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন; তিনি কিছুকাল যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন। বর্তমানে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ভারতে অজ্ঞাতবাসে অবস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।


   

চৈতালি অপেক্ষা করছে সেক্সবয়ের জন্য। সন্ধেও নামবে, সেক্সবয়ও নামবে কলকাতায়। অন্ধকার সরিয়ে সরিয়ে দক্ষিণ কলকাতার এই গলিতে ঢুকবে বিমানবন্দর থেকে আসা সেক্সবয়ের ট্যাক্সি। বোম্বে থেকে আসছে সে। চৈতালির ফ্ল্যাটেই উঠবে।

দু’জনের গত ছ’মাস যাবৎ প্রায় সব হয়েছে, শুধু সামনাসামনি দেখাটাই হয়নি। ফেসবুকে প্রথম কথা হয়, মূলত সেক্সের কথা। চৈতালিকে আকৃষ্ট করেছিল সেক্সবয় নামটি। প্রোফাইলের ছবিটি উলঙ্গ পুরুষের। এর সঙ্গে সেক্স ছাড়া আর কী বিষয়ে কথা বলা যায়! চৈতালি সেক্স নিয়ে কথা বলতেই সেক্সবয়কে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। নিজের যৌনসম্পর্কহীন জীবন বড় দুঃসহ হয়ে উঠেছিল।

শহরে এত যুবকের ভিড়, আর চৈতালির মতো সুন্দরী বিদুষী মেয়ের জন্য কোনো প্রেমিক জোটে না! সত্যিই জোটে না। যে লোকটির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার, সেটিও হয়েছিল বাবার ঠিক করে দেওয়া পাত্র। অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে সুব্রতকে ডিভোর্স করেছে চৈতালি। এরপর একেবারেই যে কারও সঙ্গে কিছূই ঘটেনি তা নয়। দশ বছরের ছোট এক কলিগ অশোকের সঙ্গে প্রায় একমাস মতো একটা সম্পর্ক ছিল চৈতালির। কিন্তু অশোকের বিয়ের পর ওই সম্পর্কটা ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয় সে। চৈতালি চায়নি ঘরে তরুণী স্ত্রী রেখে তার সঙ্গে গোপনে শুতে আসুক অশোক।

একটি ইংরেজি দৈনিকে চাকরি করে চৈতালি। অনেকদিনের চাকরি। অনেক দায়িত্ব। কিন্তু কোনো অফিসের কোনো বোঝা চৈতালি বাড়ি বয়ে আনতে চায় না। বাড়িতে থাকতে চায় সে ভাবনাহীন। সামান্য কিছুক্ষণ সময় নিজের জন্য রাখতেই তো হয়, কিছুক্ষণই তো সময়! ওদিকে মেয়ে পড়ছে দিল্লিতে। ওর খোঁজখবরও করতে হয়। আজকাল মোবাইল যুগে খোঁজ খবরের ব্যাপারগুলো জলের মতো সোজা। অফিস তো অফিস, চৈতালি না থাকলেও অফিস থাকবে। মেয়ের জীবনও মেয়ের জীবন। চৈতালি মরে গেলেও মেয়ে দিব্যি মানিয়ে নেবে। চৈতালির বাবা ও মা মারা গেছেন। চৈতালিই ছিল একমাত্র সন্তান। মা-বাবার কথা তার এখন খুব মনেও পড়ে না।

অফিস থেকে ফিরে চৈতালি আগে একটা বই নিয়ে বসতো পড়তে। এখন ফেসবুক নিয়ে বসে। ফেসবুক যে কী ভয়ঙ্কর এক নেশার মতো! আসলে, ফেসবুক নয়, সেক্সবয় প্রতিদিন যে বলছে চৈতালির সঙ্গে বিছানায় সে কী কী করবে, কী করে চৈতালির সারা শরীরে চুমু খাবে, কী করে ঠোঁটে, বুকে আদর করবে, কী করে চৈতালির স্বাদ নেবে, আর তাকে ঘন ঘন শীর্ষসুখ দেবে… সেসব পড়ার নেশা। এই নেশাটা তাকে প্রচুর অস্থিরতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। এখন সে রাস্তাঘাটে বা অফিসের যুবকগুলোর দিকে আগের মতো চাই চাই চোখে তাকায় না।
সেক্সবয় চৈতালির দৈনন্দিন জীবনকে অনেক পূর্ণ এবং তৃপ্ত করেছে। মনে মনে সে কৃতজ্ঞ সেক্সবয়ের কাছে। ফেসবুকে সম্পর্কটা এখন আটকে নেই। দু’মাস যাবৎ প্রায় প্রতিদিন কথা হচ্ছে ফোনে, আর শেষ কয়েকদিন স্কাইপেতে দু’জনের সেক্সও ঘটেছে। সেক্সবয়ের আসল নাম বিজয়, মারাঠী, আর্কিটেক্ট, বয়স পঁয়ত্রিশ। এর চেয়ে চমৎকার জুটি আর কী হতে পারে!

বোম্বে থেকে কলকাতায় উড়ে এসে চৈতালির সঙ্গে সত্যিকার সেক্সের প্রস্তাবটি চৈতালিই দিয়েছিল বিজয়কে। শুধু তাই নয়, বোম্বে কলকাতা আসা যাওয়ার টিকিটও ইমেইল করেছিল। টিকিট পেয়ে ‘লেটস ফাক হোল উইক’ বলে লাফিয়ে উঠেছিল বিজয়। বিজয়কে ছুঁয়ে দেখতে চায় চৈতালি। সত্যিকার মৈথুন চাই, হস্তমৈথুন শরীর আর নিতে চায় না।
সাতদিনের ছুটি নিয়েছে চৈতালি, আজ বিকেলেই।
অশোক জিজ্ঞেস করেছে, ‘হঠাৎ এতদিনের ছুটি কেন? কোথাও যাচ্ছো?’ চৈতালি হেসে বলেছে, ‘ক্লাউড নাইনে’ যাওয়ার ফ্লাইট বুক করেছি। যাবি? ‘বিয়েটা না করলে ঠিক ঠিকই যেতাম।’

চৈতালির ঠোঁটে একচিলতে হাসি। অশোকের জন্য সেই আকর্ষণ আর নেই চৈতালির, বিজয় এসে অশোকের জায়গা, চৈতালি জানে না, কবেই দখল করে নিয়েছে। অশোকের বিয়ের পর বিজয়ের মতো একজন পুরুষেরই দরকার ছিল তার জীবনে, এরকম বানের জলের মতো কেউ, পুরানো সব স্মৃতি ভাসিয়ে নেবে, স্নিগ্ধ শীতল নতুনতা ছড়িয়ে তাকে আরও উজ্জ্বল করবে, যেন সে জন্ম নিল এইমাত্র, অতীত বলে কিছু ছিল না কখনও তার।
অশোক অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলেছে, ‘কী কারও প্রেমে পড়েছ নাকি, দেখতে আরও উজ্জ্বল হয়েছ।’ মিষ্টি হেসে চৈতালি বলেছে, ‘এই, মুনা কেমন আছ? চলছে তো সব ঠিকঠাক?’ বলে, অশোকের উত্তরের জন্য না অপেক্ষা করেই অফিস থেকে বেরিয়ে গেছে চৈতালি। প্রতিদিন যখন বেরোয় তার চেয়ে খানিক আগেই বেরিয়েছে। শরীর জুড়ে বিজয় তার। সকাল থেকেই শরীরে বান ডাকছে।

বাড়িতে এসে গান গাইতে গাইতে ধ্যান করেছে। এত সময় নিয়ে চৈতালি ধ্যান করে না খুব। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ সেজেছে। পারফিউম মেখেছে। শোবার ঘরটা সাজিয়েছে। নতুন চাদর বিছিয়েছে বিছানায়। দুটো শুধু বালিশ ছিল, নতুন দুটো বালিশ যোগ করেছে। বড় ফ্ল্যাট চৈতালির। তিনটে শোবার ঘর। একটায় চৈতালি থাকে। আরেকটা অতিথির জন্য। আরেকটায় থাকে শকুন্তলা। শকুন্তলা পুরানো কাজের লোক।
শকুন্তলা জিজ্ঞেস করেছে, ‘আজ অশোক বাবু আসছে নাকি চৈতি, এত সাজগোজ করছ যে?’ শুনে বিরক্ত কণ্ঠে চৈতালি বলেছে, ‘তুমি যে দিদি কী আবোলতাবোল বকো, অশোক বউ নিয়ে সুখের সংসার করছে, ও আসবে কেন?’ ‘তাহলে, নতুন ভাগ্যবানটা কে শুনি?’ চৈতালি হেসে বলেছে, ‘এলেই দেখতে পাবে।’

শকুন্তলা প্রচুর রান্না করেছে আজ। বিজয় আর চৈতালি ক্যান্ডেল-লাইট ডিনার করবে। তারপর শোবার ঘরে চলে যাবে, দরজা বন্ধ করে দেবে ঘরের। জানালার পর্দাটা সরিয়ে দেওয়া। বিছানা থেকেই জানালার ওপারের চাঁদটা দেখতে পাবে। জ্যোৎস্না ঘর ভরে যাবে, আর ওই আলোয় তারা শরীরে শরীর ডুবিয়ে ধ্যান করবে সারা রাত। শোবার ঘরটায় চৈতালি জুঁইয়ের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে রাখে। নিজের গায়েও সুগন্ধী। বাড়িটায় যেন ফুলের উৎসব হচ্ছে।

কণিকার রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিডি চালিয়ে দেয়। ‘হৃদয়বাসনা পূর্ণ হলো’ গানটি বাজতে থাকে। চৈতালি গাইতে থাকে কণিকার সঙ্গে। কখনই খুব ভালো গাইতে জানে না চৈতালি। কিন্তু গান ভালোবাসতে ভালো জানে। চৈতালি একটা নীল রঙের শাড়ি পরেছে। ইচ্ছে করেই খুব বড় গলার ব্লাউজ পরেছে। স্তনজোড়া উঁকি দিচ্ছে, দিক। লরিয়েলের কালো রঙ চৈতালির চুলে। সামান্যই পেকেছে যদিও, চৈতালি মুছে ফেলেছে সাদার চিহ্ন। চল্লিশের টান টান শরীর, কিন্তু চুলে পাকন, ঠিক মেলে না। এমনিতে কালো সাদায় তার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেক্সবয়ের সঙ্গে সাতটা দিন ঘনিষ্ঠ সময় কাটাবে, বয়সের চিহ্নটিহ্ন এসে না হয় এই সাতটা দিন না জ্বালাক।

বিজয় ফোন করেছে দমদমে নেমেই। রেড লেবেলের একটা বোতল আর দুটো গ্লাস এনে শোবার ঘরের খাটের পাশের টেবিলে রাখে চৈতালি। এরকম অ্যাডভেঞ্চার আগে কখনও করেনি সে। একটা অচেনা মানুষের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হলো, তার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে যাওয়ার জন্যই সব আয়োজন দু’জন করছে, কোনো প্রেম হলো না, কেউ কারও জন্য ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করলো না, যৌনতা ছাড়া জগতের অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হলো না! দু’জনের কিন্তু কারওরই মনে হচ্ছে না খুব বিচ্ছিরি কোনো কাজ তারা করছে। দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক। দু’জনই একা থাকে। কোনো স্বামী বা কোনো স্ত্রীকে ঠকিয়ে কিছু করছে না তারা। শরীর চাইলে শরীর তারা তবে কেন মেলাবে না!
সকাল থেকেই শরীরে বান ডাকছে। চৈতালীর মনে হতে থাকে সে নিতান্তই ষোলো বছর বয়সী এক কিশোরী। না হয় সে ষোলো বছর বয়সীই। ষোলো বছর যখন বয়স, তখন সে কঠিন কঠিন বই পড়ে। কাটিয়েছে, চল্লিশ বা পঞ্চাশ বয়সীরা যা করে। সেই ষোলোটা ফেরত পাওয়ার যদি সুযোগ হয়, তবে ফেরত সে নেবে না কেন! কাউকে তো দিব্যি দেয়নি যে ফেলে আসা কোনো বয়স সে কোনোদিন ফেরত নেবে না।

চৈতালির কাছে বিজয় সম্ভবত আস্ত একটি পুরুষাঙ্গ ছাড়া আর কিছু নয়। সে বলে-কয়েই সাতদিন শুতে আসছে চৈতালির সঙ্গে। শুধু শরীরের আকর্ষণকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে একটা সম্পর্ক। চৈতালি ভাবে, সবসময় যে আগে মন, পরে শরীর হতে হবে তারইবা কী মানে, শরীর আগে, মন পরে হওয়াটাই বরং বেশি যৌক্তিক। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চয়ই বিজয় ওকে জড়িয়ে ধরে গভীর করে চুমু খাবে। তারপর সোজা শোবার ঘরে। দৃশ্যগুলো কল্পনা করে চৈতালি। আবেগে চোখ বোজে। শরীরে নিভৃতে গর্জন করে সুখের স্রোত।

শকুন্তলাকে বলে রেখেছে, ঘরের দরজা বন্ধ করে যেন সে শুয়ে থাকে, দরকার হলে ডাকবে। কেবল খাবার সময় শকুন্তলার ডাক পড়ে। শকুন্তলা জানে নিয়মগুলো। অশোকের সময় এরকমই ঘটতো। চৈতালির ডিভোর্সের পর শকুন্তলা বলেছে অনেকবার, ‘এবার একটা বিয়ে করো চৈতি’। বিয়ে করব না করব না বলে কয়েক বছর পার করেছে। তারপর অশোকের সঙ্গে যখন প্রেম করছে চৈতালী, শকুন্তলা বলেছে, ‘তাহলে একজন বন্ধুকেই পার্মান্যান্ট করে নাও। কাউকে যে ইচ্ছে করলেই কিছু করে নেওয়া যায় না, তা শকুন্তলাকে শত বলেও বোঝাতে পারে না চৈতালি। শকুন্তলা চৈতালির জন্মের সময় থেকে এই বাড়িতে আছে। বিয়ে করেনি। অথচ চৈতালির বিয়ে না করা আর স্থায়ী সঙ্গী না নেওয়া নিয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। নিজের চেয়ে মনিবের পরিবারকে আপন করে দেখলে বুঝি এই হয়।

২. বিজয় এল। ফোটো দেখে বা স্কাইপেতে দেখে যেমন অনুমান করেছিল, তার চেয়ে অন্যরকম, যতটুকু লম্বা ভেবেছিল, তার চেয়ে বরং খানিকটা বেশি, যতটা মোটা লাগছিল, তার চেয়েও স্লিম, যতটা সুদর্শন ভেবেছিল, তার চেয়েও বেশি সুদর্শন বিজয়। দু’জন হাই বিজয়, হাই চৈতালি বলে হাত মেলাল। শোবার ঘরে নেওয়ার বদলে চৈতালি বসার ঘরে নিয়ে এল বিজয়কে। দু’সোফায় মুখোমুখি বসল দু’জন। একটুখানি দৃষ্টি বিনিময়। একটুখানি হাসি দু’জনের ঠোঁটে। চৈতালি বসে আছে বিজয় উঠে এসে ঠিক স্কাইপেতে যেমন বলত, ‘ইউ লুক সো হট হানি। কাম অন, লেটস হ্যাব সেক্স’ বলে কিনা। বিজয় নিজেই কাপড় খুলে ফেলত, ক্যামেরাকে নামিয়ে দিত উরুসন্ধির দিকে, আর চৈতালিও খুলত বুকের কাপড়। দুটো যৌনকাতর নারী-পুরুষ আজ মুখোমুখি বসে আছে। দু’টো শরীরের বাসনা আজ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে দু’জনের কথোপকথনে যৌনতার তিলমাত্র কিছু নেই।

– একটু জল খাবো। – আই অ্যাম সরি। জল আগেই দেওয়া উচিত ছিল। চা বা কফি কিছু খাবে? – না। আমি খাই না ওসব। – তবে কি, হুইস্কি খাবে? – হুইস্কি তো আমি খাই-ই না। – ও – ক’টার সময় রাতের খাবার খাও? – ঠিক নেই। বেশ সুন্দর সাজানো ফ্ল্যাট। এত বই কার? সব তোমার? – হ্যাঁ আমার।

বিজয় উঠে বইয়ের তাকগুলোর দিকে যায়, মগ্ন হয়ে বই দেখতে থাকে। অনেকক্ষণ কেটে যায় এভাবে। চৈতালি জল এনে দিলে বই দেখতে দেখতেই জল খায়। – ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, আমি কি কিছু বই বের করতে পারি এখান থেকে? – হ্যাঁ নিশ্চয়ই, গো এহেড।
বিজয় তিনটে বই নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল। সোফায় এসে বলল, তুমিও দেখছি রডি ডয়েলের বই পছন্দ কর। দ্য ডেড রিপাবলিক পড়েছ? চৈতালি হেসে বলল, ওর শুধু তিনটে পড়েছি, প্যাডি ক্লার্ক হাহাহা, এ স্টার কল্ড হেনরি আর দ্য গাটস। – তোমার অসাধারণ কালেকশন। – ক্লাসিকস বেশ কিছু আছে। – ক্লাসিকসের কথা বাদ দাও। ওগুলো ছোটবেলায় পড়েছি। ইদানীং বিল ব্রাইসন থাকলে আমার আর কিচ্ছু চাই না। – আছে বিল ব্রাইসন বেশ কটা।
চোখেমুখে খুশি উপচে ওঠে বিজয়ের।

– তুমি বিল ব্রাইসনও পছন্দ কর? বাহ! কোনগুলো আছে বল না। শেষটা আমার এখনও পড়া হয়নি। – আমার সবচেয়ে পছন্দ এ সর্ট হিস্টরি অব নিয়ারলি এভরিথিং। – ও বইটার তুলনা হয় না। – আমার কাছে আছে আই অ্যাম এ স্ট্রেঞ্জার হেয়ার মাইসেল্ফ, অ্যট হোম, নাইদার হেয়ার নর দেয়ার… – ওয়ান সামারটা তো এখনও বেরোয়নি বোধহয়। – এই অক্টোবরে বেরোবে।

বিজয়ের মধ্যে একটা কিশোর বাস করে। দেখে ভালো লাগে চৈতালির। চৈতালির মতোই সে উজ্জ্বল উচ্ছ্বল হয়ে ওঠে সময় সময়। বইয়ের গল্পে মেতে ওঠে বিজয়। যেন দু’জনে কোনো বুক ক্লাবের মেম্বার। বইয়ের পছন্দে এত মিল আর কারও সঙ্গে নেই চৈতালির। তারপর কথায় কথায় বেড়ানোর কথা উঠল, ভারতের কোথায় কোথায় কে গেছে। তাতেও মিল, দু’জনে বর্ণনা করতে থাকে দু’জনের পছন্দের জায়গাগুলোয় নিজেদের অভিজ্ঞতা। এক সময় খাবারের প্রসঙ্গ ওঠে, ওতেও মিল। দু’জনই বাঙালি খাবার পছন্দ করে।
দশটা বেজে যায় গল্প করতে করতে। জল ছাড়া কেউ আর কিছু পান করে না। ফলের রসও, বিজয় বলেছে, খাবে না। শকুন্তলাকে ডাকে চৈতালি। শকুন্তলা টেবিলে খাবার সাজিয়ে দেয়। না, মোমবাতি জ্বালানোর প্রয়োজন মনে করে না চৈতালি।

খেতে খেতে বিজয় বলে, ‘বাহ, বেশ কম তেলে কম মশলায় রান্না তো। আমার মা’র রান্নার মতো। ‘শকুন্তলা ভালো রাঁধে। শকুন্তলার বেশ প্রশংসা করল। বিজয়। চৈতালির থালায় নিজে খাবার বেড়ে দিল। খাওয়া শেষ হলে রান্নাঘরে গিয়ে নিজের থালা নিজেই ধুয়ে রেখে এল। পরিপূর্ণ ভদ্রলোক। দেখে বেশ ভালো লাগে চৈতালির। কলকাতায় আজ অবধি এমন ভদ্রলোক সে দেখেনি। খেয়ে ওঠার পর বিজয় বলল চৈতালিকে কাল ডিনারে নিয়ে যাবে সে, কলকাতার সবচেয়ে ভালো বাঙালি খাবারের রেস্টুরেন্টে।

শকুন্তলা জিজ্ঞেস করল, বিজয়ের মা কী কী রাঁধেন, শুধু মারাঠী রান্না, নাকি বাঙালি রান্নাও? বিজয় অনেকক্ষণ চুপ হয়ে থেকে বলে যে তার মা মারা গেছেন এক বছর হলো। সড়ক দুর্ঘটনায়। বিজয় মায়ের সঙ্গেই থাকত। বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে দাদা। গাড়িটা সেদিন চালাচ্ছিল বিজয় নিজে। দাদার বাড়ি থেকে ডিনার খেয়ে ফিরছিল বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে। মদ্যপান করেছিল। বোমার মতো একটা ট্রাক ছুটে আসছিল তার গাড়ির দিকে, দেখতে পায়নি। ট্রাক এসে ধাক্কা মারল, আর গাড়িটা গড়াতে গড়াতে খাদে পড়ে গেল। ওখানেই মারা যায় মা। বিজয় চোট পেয়েছিল, তবে হাসপাতালে দুদিন থাকার পর তা সেরে যায়। সেদিনের পর থেকে বিজয় আর মদ ছোঁয়নি। মায়ের কথায় মায়ের কথা আসে।

শকুন্তলাও মায়ের গল্পে যোগ দেয়। চৈতালি অনেকদিন ভুলে ছিল নিজের মাকে। আজ যেন মা তার সামনে এসে বসেছে। স্মৃতির ঝাঁপি সকলেই খুলে বসে। সকলের চোখ ভিজে ওঠে। বিজয় তার মায়ের প্রসঙ্গ না তুললে সম্ভবত এভাবেই চৈতালি ভুলে থাকত মাকে। বারোটা বেজে যায়। বিজয় বলে, ‘আমি কোথায় ঘুমোব?’ চৈতালি কিছুক্ষণ ভাবে। তারপর হেসে বলে শকুন্তলাকে, ‘তুমি দিদিসোনা গেস্টরুমের বিছানাটা ঠিক করে দাও। চাদরটা চেঞ্জ করে দিও। আমার ঘরে এক্সট্রা বালিশ আছে, নিয়ে যেও।’ বিজয় আগে কখনও কলকাতায় আসেনি। চৈতালি বলে, কাল তোমাকে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে নিয়ে যাব। আর মার্বেল প্যালেসে। তোমার ভালো লাগবে। বিজয় ‘অ্যাট হোম’ বইটি হাতে নিয়ে মিষ্টি হেসে বলে, ‘এই বইটা কি রাতে পড়ার জন্য নিতে পারি? এটা আমার পড়া হয়নি।’
৩. যে কটা দিন ছিল বিজয়, কিশোর-কিশোরীর মতো চৈতালি আর বিজয় কলকাতার রাস্তায় টই টই করে ঘূরেছে, রাস্তার কিনারের তেলেভাজা থেকে ভজহরি মান্নার খাবার কিছু বাদ দেয়নি। হাতেটানা রিকশায় চড়েছে গঙ্গায় নৌকো চড়েছে, যেদিকে খুশি সেদিকে চলে গেছে। চৈতালি ভুলে গেছে তার চাকরিবাকরি, তার কন্যা, তার অতীত ভবিষ্যৎ। যেন সে পৃথিবী থেকে অনেক দূরে, সবার নাগালের বাইরে, কোনো অচেনা আকাশে উড়েছে। সত্যিকার ‘ক্লাইড নাইন’ বোধহয় একেই বলে।
শকুন্তলাকে বিজয় উপহার দিয়েছে দু’টো চমৎকার শাড়ি, এত ভালো শাড়ি নাকি শকুন্তলা ইহজন্মে পরেনি। চৈতালির জন্য গনেশ পাইনের একটা পেইন্টিং। প্রথম একজন মানুষের সঙ্গে দেখা হলো, যার সঙ্গে ভাবনা চিন্তার প্রায় সম্পূর্ণই মিল পেল চৈতালি। জীবনের অনেক কথা বলেছে সে বিজয়কে। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের কথা, মেয়ের মেয়ের কথা, অশোকের কথা, একরাশ দুঃখসুখের কথা। সব মন দিয়ে শুনেছে বিজয়। বিজয়ও বলেছে, তবে বলার চেয়ে বিজয় শুনতেই বেশি পছন্দ করেছে। মাত্র ক’টা দিনে কী অসম্ভব আপন হয়ে উঠেছে বিজয়। যেন বিজয় তার ছোটবেলার কোনো বন্ধু। যেন বিজয়ের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর জুড়ে চৈতালি এক্কাদোক্কা খেলেছে, মার্বেল লাটিম খেলেছে, পুকুরে মাছ ধরেছে।

মাঝে মধ্যে অতীতের কোনো ঘটনা বলতে গিয়ে চৈতালির চোখে জল এসেছে। আলতো করে বুকে টেনে তাকে শান্ত করেছে বিজয়। বিজয়ের ওটুকু স্পর্শই পেয়েছে চৈতালি গোটা সাতদিনে। চুমু খেতে একবার দু’বার চেয়েছিল, কিন্তু বারণ করেছে নিজেকে। ভেবেছে, বিজয় বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছু ভাবছে না।

বিজয় চলে যায়, চৈতালিকে দিয়ে যায় চৈতালির শ্রেষ্ঠ সময়। চৈতালির আর জিজ্ঞেস করা হয়নি, ফেসবুকে সেক্সবয় নামের আড়ালে বিজয়ের চরিত্র কেন তার ফেসবুকের বাইরের বিজয়ের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত? জিজ্ঞেস করেনি, অনুমান করে নিয়েছে, মায়ের মৃত্যুর কারণে যে ভীষণ গ্লানি আর শোকে ভুগছে বিজয়, তা থেকে মুক্তি পেতেই আশ্রয় নিয়েছে ফেসবুকে, ভিন্ন চরিত্রে। চৈতালি কেন আশ্রয় নিয়েছে ফেসবুকে! তার তো কোনো গ্লানি নেই, শোক নেই! কিছু হয়ত চৈতালির ভেতরেও আছে, চৈতালি জানে না। বিজয় জানে কি? জিজ্ঞেস করা হয়নি বিজয় জানে কি না।

এ ক’দিনে একবারও চৈতালির শরীরে বান ডাকেনি। শুধু মনেই ঝরেছে ঝড়বৃষ্টি। চৈতালির ফেসবুকের চরিত্রটা কি চৈতালির সত্যিকারের চরিত্র নয়! চৈতালি ভাবে, কোন বিজয় সত্যিকারের বিজয়! যে বিজয়ের সঙ্গে নেটে দেখা হয়, নাকি যে রক্তমাংসের বিজয়ের সঙ্গে কলকাতায় দেখা হলো! রক্তমাংসের বিজয়ই তো ফেসবুকের সেক্সবয়, যার সঙ্গে রাতে রাতে তার শরীরের উৎসব হয়। কত যে রহস্য একজন মানুষের ভেতর। সম্ভবত কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে বাস করে একজন মানুষের মধ্যে। একজন আরেকজনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

বিজয়কে এয়ারপোর্টে সি অফ করে যখন বাড়ি ফিরছিল, উদাস তাকিয়েছিল গাড়ির জানালায়, তখন এসএমএস আসে। বিজয় লিখেছে, আই লাভ ইউ। বুক কাঁপে চৈতালির। তীব্র ভালো লাগা মন থেকে শরীরে ছড়িয়ে যায়। চৈতালি লিখল, মি টু। ঘরে ফিরে দেখে সেই যে কণিকার সিডিটা বাজছিল, সেটা বেজেই চলেছে, কণিকার কণ্ঠে তখন, ‘চিরসখা হে ছেড়ো না মোরে…’ সঙ্গে সঙ্গে গায় চৈতালি, ‘চিরসখা হে ছেড়ো না মোরে…’।

এমন ভেঙ্গে চুরে ভালো কেউ বাসেনি আগে - তসলিমা নাসরিন---কিছুক্ষণ থাকো

 

এমন ভেঙ্গে চুরে ভালো কেউ বাসেনি আগে
- তসলিমা নাসরিন---কিছুক্ষণ থাকো


কী হচ্ছে আমার এসব!
যেন তুমি ছাড়া জগতে কোনও মানুষ নেই, কোনও কবি নেই, কোনও পুরুষ নেই, কোনও
প্রেমিক নেই, কোনও হৃদয় নেই!
আমার বুঝি খুব মন বসছে সংসারকাজে?
বুঝি মন বসছে লেখায় পড়ায়?
আমার বুঝি ইচ্ছে হচ্ছে হাজারটা পড়ে থাকা কাজগুলোর দিকে তাকাতে?
সভা সমিতিতে যেতে?
অনেক হয়েছে ওসব, এবার অন্য কিছু হোক,
অন্য কিছুতে মন পড়ে থাক, অন্য কিছু অমল আনন্দ দিক।
মন নিয়েই যত ঝামেলা আসলে, মন কোনও একটা জায়গায় পড়ে রইলো তো পড়েই রইল।
মনটাকে নিয়ে অন্য কোথাও বসন্তের রঙের মত যে ছিটিয়ে দেব, তা হয় না।
সবারই হয়ত সবকিছু হয় না, আমার যা হয় না তা হয় না।

তুমি কাল জাগালে, গভীর রাত্তিরে ঘুম থেকে তুলে প্রেমের কথা শোনালে,
মনে হয়েছিল যেন স্বপ্ন দেখছি
স্বপ্নই তো, এ তো একরকম স্বপ্নই,
আমাকে কেউ এমন করে ভালোবাসার কথা বলেনি আগে,
ঘুমের মেয়েকে এভাবে জাগিয়ে কেউ চুমু খেতে চায়নি
আমাকে এত আশ্চর্য সুন্দর শব্দগুচ্ছ কেউ শোনায়নি কোনওদিন
এত প্রেম কেউ দেয়নি,
এমন ভেঙে চুরে ভালো কেউ বাসেনি।
তুমি এত প্রেমিক কী করে হলে!
কী করে এত বড় প্রেমিক হলে তুমি? এত প্রেম কেন জানো? শেখালো কে?
যে রকম প্রেম পাওয়ার জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করেছি, স্বপ্ন দেখেছি, পাইনি
আর এই শেষ বয়সে এসে যখন এই শরীর খেয়ে নিচ্ছে একশ একটা অসুখ-পোকা
যখন মরে যাবো, যখন মরে যাচ্ছি — তখন যদি থোকা থোকা প্রেম এসে ঘর ভরিয়ে দেয়,
মন ভরিয়ে দেয়, তখন সবকিছুকে স্বপ্নই তো মনে হবে,
স্বপ্নই মনে হয়।
তোমাকে অনেক সময় রক্তমাংসের মানুষ বলে মনে হয় না,
হঠাৎ ঝড়ে উড়ে হৃদয়ের উঠোনে
যেন অনেক প্রত্যাশিত অনেক কালের দেখা স্বপ্ন এসে দাঁড়ালে।
আগে কখনও আমার মনে হয়নি ঘুম থেকে অমন আচমকা জেগে উঠতে আমি আসলে
খুব ভালোবাসি
আগে কখনও আমার মনে হয়নি কিছু উষ্ণ শব্দ আমার শীতলতাকে একেবারে পাহাড়ের
চুড়োয় পাঠিয়ে দিতে পারে
আগে কখনও আমি জানিনি যে কিছু মোহন শব্দের গায়ে চুমু খেতে খেতে আমি রাতকে
ভোর করতে পারি।

তসলিমা নাসরিন এর অসাধারণ কিছু কবিতা

 

তসলিমা নাসরিন এর অসাধারণ কিছু কবিতা





ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত


ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,
তবু এখনো কেমন যেন হৃদয় টাটায়-
প্রতারক পুরুষেরা এখনো আঙুল ছুঁলে পাথর শরীর
বয়ে ঝরনার জল ঝরে।
এখনো কেমন যেন কল কল শব্দ শুনি নির্জন
বৈশাখে, মাঘ-চৈত্রে-
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,
তবু বিশ্বাসের রোদে পুড়ে নিজেকে অঙ্গার করি।
প্রতারক পুরুষেরা একবার ডাকলেই ভুলে যাই
পেছনের সজল ভৈরবী,
ভুলে যাই মেঘলা আকাশ, না-
ফুরানো দীর্ঘ রাত।
একবার ডাকলেই
সব ভুলে পা বাড়াই নতুন ভুলের দিকে,
একবার ভালোবাসলেই
সব ভুলে কেঁদে উঠি অমল বালিকা।
ভুল প্রেমে তিরিশ বছর গেল
সহস্র বছর যাবে আরো,
তবু বোধ হবে না নির্বোধ বালিকার।



হিসেব

কতটুকু ভালোবাসা দিলে,
ক তোড়া গোলাপ দিলে,
কতটুকু সময়, কতটা সমুদ্র দিলে,
কটি নির্ঘুম রাত দিলে, কফোঁটা জল দিলে চোখের –
সব যেদিন ভীষণ আবেগে শোনাচ্ছেলে আমাকে,
বোঝাতে চাইছিলে আমাকে খুব ভালোবাসো;

আমি বুঝে নিলাম-
তুমি আমাকে এখন আর একটুও ভালোবাসোনা।
ভালোবাসা ফুরোলেই মানুষ হিসেব কষতে বসে, তুমিও বসেছো।
ভালোবাসা ততদিনই ভালোবাসা
যতদিন এটি অন্ধ থাকে, বধির থাকে,
যতদিন এটি বেহিসেবি থাকে।



ব্যস্ততা

তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, যা কিছু নিজের ছিল দিয়েছিলাম,
যা কিছুই অর্জন-উপার্জন !
এখন দেখ না ভিখিরির মতো কেমন বসে থাকি !
কেউ ফিরে তাকায় না।
তোমার কেন সময় হবে তাকাবার ! কত রকম কাজ তোমার !
আজকাল তো ব্যস্ততাও বেড়েছে খুব।
সেদিন দেখলাম সেই ভালবাসাগুলো
কাকে যেন দিতে খুব ব্যস্ত তুমি,
যেগুলো তোমাকে আমি দিয়েছিলাম।


টোপ

যেরকম ছিলে, সেরকমই তুমি আছ
কেবল আমাকে মাঝপথে ডুবিয়েছ
স্বপ্নের জলে উলটো ভাসান এত
আমি ছাড়া আর ভাগ্যে জুটেছে কার!

আগাগোড়া তুমি অবিকল সেই তুমি
বড়শিতে শুধু গেঁথেছ দু’চার খেলা
অলস বিকেল খেলে খেলে পার হলে
রাত্তিরে ভাল নিদ্রাযাপন হয়।

তুমি তো কেবলই নিদ্রার সুখ চেনো
একশো একর জমি নিজস্ব রেখে
এক কাঠা খোঁজো বর্গার তাড়নায়
বর্গার চাষ পৃথক স্বাদের কিনা!

স্বাদ ভিন্নতা পুরুষ মাত্র চায়
তুমি তো পুরুষই, অধিক কিছু নও।
পুরুষেরা ভাল চোখ খেতে জানে চোখ
আমার আবার কাজলের শখ নেই।

বড়শিতে গাঁথা হৃদপিন্ডের আঁশ
ছিঁড়ে খেতে চাও, তুমি তো পুরুষই খাবে।
সাঁতার জানি না, মধ্যনদীতে ডুবি
অন্ধকে টোপ দেবার মানুষ নেই।



দ্বিখন্ডিত

সে তোমার বাবা, আসলে সে তোমার কেউ নয়
সে তোমার ভাই, আসলে সে তোমার কেউ নয়
সে তোমার বোন, আসলে সে তোমার কেউ নয়
সে তোমার মা, আসলে সে তোমার কেউ নয় ।
তুমি একা
যে তোমাকে বন্ধু বলে, সেও তোমার কেউ নয় ।
তুমি একা।
তুমি যখন কাঁদো, তোমার আঙুল
তোমার চোখের জল মুছে দেয়, সেই আঙুলই তোমার আত্মীয়।
তুমি যখন হাঁটো, তোমার পা
তুমি যখন কথা বলো, তোমার জিভ
তুমি যখন হাসো, তোমার আনন্দিত চোখই তোমার বন্ধু।
তুমি ছাড়া তোমার কেউ নেই
কোন প্রানী বা উদ্ভিদ নেই।
তবু এত যে বলো তুমি তোমার,
তুমিও কি আসলে তোমার ?



চরিত্র

তুমি মেয়ে,
তুমি খুব ভাল করে মনে রেখো
তুমি যখন ঘরের চৌকাঠ ডিঙোবে
লোকে তোমাকে আড়চোখে দেখবে।
তুমি যখন গলি ধরে হাঁটতে থাকবে
লোকে তোমার পিছু নেবে, শিস দেবে।
তুমি যখন গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠবে
লোকে তোমাকে চরিত্রহীন বলে গাল দেবে।
যদি তুমি অপদার্থ হও
তুমি পিছু ফিরবে
আর তা না হলে
যেভাবে যাচ্ছ, যাবে।




যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন

আমার জন্য অপেক্ষা করো মধুপুর নেত্রকোনা
অপেক্ষা করো জয়দেবপুরের চৌরাস্তা
আমি ফিরব। ফিরব ভিড়ে হট্টগোল, খরায় বন্যায়
অপেক্ষা করো চৌচালা ঘর, উঠোন, লেবুতলা, গোল্লাছুটের মাঠ
আমি ফিরব। পূর্ণিমায় গান গাইতে, দোলনায় দুলতে, ছিপ ফেলতে বাঁশবনের পুকুরে-
অপেক্ষা করো আফজাল হোসেন, খায়রুননেসা, অপেক্ষা করো ঈদুল আরা,
আমি ফিরব। ফিরব ভালবাসতে, হাসতে, জীবনের সুতোয় আবার স্বপ্ন গাঁথতে-
অপেক্ষা করো মতিঝিল, শান্তিনগর, অপেক্ষা করো ফেব্রুয়ারি বইমেলা আমি ফিরব।
মেঘ উড়ে যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, তাকে কফোটা জল দিয়ে দিচ্ছি চোখের,
যেন গোলপুকুর পাড়ের বাড়ির টিনের চালে বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
শীতের পাখিরা যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, ওরা একটি করে পালক ফেলে আসবে
শাপলা পুকুরে, শীতলক্ষায়, বঙ্গোপসাগরে।
ব্রহ্মপুত্র শোনো, আমি ফিরব।
শোনো শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, সীতাকুণ্ড- পাহাড়-আমি ফিরব।
যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন।



বড় ভয়ে গোপনে গোপনে বাঁচি

মানুষের চরিত্রই এমন
বসলে বলবে না, বসো না
দাঁড়ালে, কি ব্যাপার হাঁটো
আর হাঁটলে, ছি: বসো।
শুয়ে পড়লে ও তাড়া - নাও উঠো,
না শুলে ও স্বষ্তি নেই, একটু তো শুবে !
ওঠ বস করে করে নষ্ঠ হচ্ছে দিন
এখনো মরতে গেলে বলে ওঠে - বাঁচো
না জানি কখন ও বাঁচতে দেখলে বলে উঠবে - ছি: মরো
বড় ভয়ে গোপনে গোপনে বাঁচি।



অভিমান

কাছে যতটুকু পেরেছি আসতে, জেনো
দূরে যেতে আমি তারো চেয়ে বেশী পারি।
ভালোবাসা আমি যতটা নিয়েছি লুফে
তারো চেয়ে পারি গোগ্রাসে নিতে ভালোবাসা হীনতাও।
জন্মের দায়, প্রতিভার পাপ নিয়ে
নিত্য নিয়ত পাথর সরিয়ে হাঁটি।
অতল নিষেধে ডুবতে ডুবতে ভাসি,
আমার কে আছে একা আমি ছাড়া আর ?


সময়

রাত তিনটেয় ঘুম ভেঙে গেলে এখন আর বিরক্ত হই না
রাতে ভালো ঘুম না হলে দিনটা ভাল কাটে না – এমান বলে লোকে ।
দিন যদি ভাল না কাটে তাহলে কি কিছু যায় আসে !
আমার দিনই বা কেন , রাতই বা কেন ?
দিন দিনের মতো বসে থাকে দূরে , আর রাত রাতের মতো ,
ঘুমিয়ে থাকার গায়ে মুখ গুঁজে গুঁটি গুঁটি শুয়ে থাকে জেগে থাকা ।
এসব দিন রাত , এসব সময় , এসব বিয়ে আমার করার কিছুই নেই ,
জীবন আর মৃত্যু একাকার হয়ে গেলে কিছু আর করার থাকে না কিছু না ।
আমি এখন মৃত্যু থেকে জীবনকে বলে কয়েও সরাতে পারি না ,
জীবন থেকে মৃত্যুকে আলগোছে তুলে নিয়ে রাখতে পারি না কোথাও আপাতত ।



প্রত্যাশা

কারুকে দিয়েছ অকাতরে সব ঢেলে
সেও অন্তত কিছু দেবে ভেবেছিলে।
অথচ ফক্কা, শূন্যতা নিয়ে একা
পড়ে থাকো আর দ্রুত সে পালায় দূরে
ভালবেসে কিছু প্রত্যাশা করা ভুল।

আলোকিত ঘর হারিয়ে ধরেছ অন্ধকারের খুঁটি
যারা যায় তারা হেসে চলে যায়, পেছনে দেখে না ফিরে।
তলা ঝেড়ে দিলে, যদিও জোটেনি কানাকড়ি কিছু হাতে
তুমি অভুক্ত, অথচ তোমার সম্পদ খায় তারা
যাদের বেসেছ নিংড়ে নিজেকে ভাল।

ঠকতেই হবে ভালবেসে যদি গোপনে কিছুর করো
প্রত্যাশা কোনও, এমনকি ভালবাসাও পাবার আশা।



হাত

আবার আমি তোমার হাতে রাখবো বলে হাত
গুছিয়ে নিয়ে জীবনখানি উজান ডিঙি বেয়ে
এসেছি সেই উঠোনটিতে গভীর করে রাত
দেখছ না কি চাঁদের নীচে দাঁড়িয়ে কাঁদি দুঃখবতী মেয়ে !
আঙুলগুলো কাঁপছে দেখ, হাত বাড়াবেকখন ?
কুয়াশা ভিজে শরীরখানা পাথর হয়ে গেলে ?
হাত ছাড়িয়ে নিয়েছিলাম বর্ষা ছিল তখন,
তখন তুমি ছিঁড়ে খেতে আস্ত কোনও নারী নাগাল পেলে।
শীতের ভারে ন্যুব্জ বাহু স্পর্শ করে দেখি
ভালবাসার মন মরেছে, শরীর জবুথবু,
যেদিকে যাই, সেদিকে এত ভীষণ লাগে মেকি।
এখনও তুমি তেমন আছ। বয়স গেল, বছর গেল, তবু।
নিজের কাঁধে নিজের হাত নিজেই রেখে বলি :
এসেছিলাম পাশের বাড়ি, এবার তবে চলি।




প্রলাপ


একদিন সমুদ্রের কাছে গিয়ে একটা ঘর বাঁধবো
মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হয় পাহাড়ের কাছে।

অমন একলা নির্বাসনের আকাশ চুয়ে শূন্যতার কুয়াশা নামলে
অথৈ জলে ভিজে ভিজে গা কাঁপিয়ে জ্বর আনবো।

আমাকে না হোক, তবু দেখতে এসো।
মানুষ তো অসুখ দেখতেও আসে



মুক্তি

যদি ভুলে যাবার হয়, ভুলে যাও।
দূরে বসে বসে মোবাইলে, ইমেইলে হঠাৎ হঠাৎ জ্বালিয়ো না,
দূরে বসে বসে নীরবতার বরফ ছুড়ে ছুড়ে এভাবে বিরক্তও করো না।

ভুলে গেলে এইটুকু অন্তত বুঝবো ভুলে গেছো,
ভুলে গেলে পা কামড়ে রাখা জুতোগুলো খুলে একটু খালি পায়ে হাঁটবো,
ভুলে গেলে অপেক্ষার কাপড়চোপড় খুলে একটু স্নান করবো,
ভুলে গেলে পুরোনো গানগুলো আবার বাজাবো,
ভুলে গেলে সবগুলো জানালা খুলে একটু এলোমেলো শোবো।
রোদ বা জোৎস্না এসে শরীরময় লুকোচুরি খেলে খেলুক, আমি না হয় ঘুমোবো,

ঘুমোবো ঘুমোবো করেও নিশ্চিন্তের একটুখানি ঘুম ঘুমোতে পারিনা কত দীর্ঘদিন!
কেবল অপেক্ষায় গেছে। না ঘুমিয়ে গেছে। জানালায় দাঁড়িয়ে গেছে।

কেউ আমাকে মনে রাখছে, কেউ আমাকে মনে মনে খুব চাইছে, সমস্তটা চাইছে,
কেউ দিনে রাতে যে কোনও সময় দরজায় কড়া নাড়বে,
সামনে তখন দাঁড়াতে হবে নিখুঁত, যেন চুল, যেন মুখ, যেন চোখ, ঠোঁট,
যেন বুক, চিবুক এইমাত্র জন্মেছে, কোথাও ভাঙেনি, আঁচড় লাগেনি, ধুলোবালি ছোঁয়নি।
হাসতে হবে রূপকথার রাজকন্যার মতো,
তার ক্ষিধে পায় যদি, চায়ের তৃষ্ঞা পায় যদি!
সবকিছু হাতের কাছে রাখতে হবে নিখুঁত!
ভালোবাসতে হবে নিখুঁত!
নিমগ্ন হতে হবে নিখুঁত!
ক্ষুদ্র হতে হবে নিখুঁত!
দুঃস্বপ্নকে কত কাল সুখ নামে ডেকে ডেকে নিজেকে ভুলিয়েছি!

ভুলে যেতে হলে ভুলে যাও, বাঁচি।
যত মনে রাখবে, যত চাইবে আমাকে, যত কাছে আসবে,
যত বলবে ভালোবাসো, তত আমি বন্দি হতে থাকবো তোমার হৃদয়ে, তোমার জালে,
তোমার পায়ের তলায়, তোমার হাতের মুঠোয়, তোমার দশনখে।

ভুলে যাও, মুখের রংচংগুলো ধুয়ে একটু হালকা হই, একটুখানি আমি হই।



তালাকনামা

যে কোনও দূরত্বে গেলে তুমি আর আমার থাকো না
তুমি হও যার-তার খেলুড়ে পুরুষ।

যে কোনও শরীরে গিয়ে
শকুনের মতো খুঁটে খুঁটে রূপ ও মাংস তুমি আহার করো
গণিকা ও প্রেমিকার শরীরে কোনও পার্থক্য বোঝো না।

কবিতার চে' চাতুর্য বোঝো ভাল,
রাত্রি এলে রক্তের ভেতর টকাশ-টকাশ দৌড়ে যায়
একশো একটা লাগামহীন ঘোড়া,
রোমকূপে পূর্বপুরুষ নেচে উঠে তাধিন-তাধিন।
আমি জোস্নার কথা তোমাকে অনেক বলেছি
তুমি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার কোনও পার্থক্য বোঝো না।
ভালবাসার চে' প্রাচুর্য বোঝো বেশি
যে কারও গোড়ালির নীচ থেকে চেটে খাও
এক ফোঁটা মদ, লক্ষ গ্যালন মদে আমুণ্ডু ডুবে
তবু তোমার তৃষ্ণা ঘোচে না।
তোমাকে স্বপ্নের অথা অনেক বলেছি
সমুদ্র ও নর্দমার ভেতরে তুমি কোনও পার্থক্য বোঝো না।
যে কোনও দূরত্বে গেলে তুমি হও যার-তার খেলুড়ে পুরুষ।

যার-তার পুরুষকে আমি আমার বলি না


যদি বাসোই

তুমি যদি ভালোই বাসো আমাকে, ভালোই যদি বাসো,
তবে বলছো না কেন যে ভালো বাসো! কেন সব্বাইকে জানিয়ে দিচ্ছ না যে
ভালোবাসো!
আমার কানের কাছেই যত তোমার দুঃসাহস!
যদি ভালোবাসো, ওই জুঁইফুলটি কেন জানে না যে ভালোবাসো!
ফুলটির দিকে এত যে চেয়ে রইলাম, আমাকে একবারও তো বললো না যে ভালোবাসো!
এ কীরকম ভালোবাসা গো! কেবল আমার সামনেই নাচো!
এরকম তো দুয়োর বন্ধ করে চুপি চুপি তুমি যে কারও সামনেই নাচতে পারো।
আমি আর বিশ্বাস করছি না, যতই বলো।
আগে আমাকে পাখিরা বলুক, গাছেরা গাছের পাতারা ফুলেরা বলুক,
আকাশ বলুক, মেঘ বৃষ্টি বলুক, রোদ বলুক চাঁদের আলো বলুক, নক্ষত্ররা বলুক,
পাড়া পড়শি বলুক, হাট বাজারের লোক বলুক, পুকুরঘাট বলুক, পুকুরের জল বলুক যে
তুমি ভালোবাসো আমাকে!
শুনতে শুনতে যখন আর তিষ্ঠোতে না পারবো তখন তোমাকে ওই চৌরাস্তায় তুলে
একশ
লোককে দেখিয়ে চুমু খাবো, যা হয় হবে।
ভালোবাসা কি গোপন করার জিনিস! দেখিয়ে দেখিয়েই তো
শুনিয়ে শুনিয়েই তো ভালোবাসতে হয়।
ভালোবাসা নিয়ে আমরা জাঁকালো উৎসব করবো, ধেই ধেই নাচবো, নাচাবো,
সুখবর বুঝি আমরা চারদিকে ঢোল বাজিয়ে জানিয়ে দিই না!
জুইঁফুলটি যেদিন বলবে যে তুমি আমাকে ভালোবাসো, সেদিনই কিন্তু তোমাকে
বলবো যে
তোমাকেও বাসি, তার আগে একটুও নয়।

আয়নাতে ঐ মুখ -খন্দকার হাফিজুর রহমান

 আয়নাতে ঐ মুখ 

-খন্দকার হাফিজুর রহমান



এ কেমন ঘুম, তুমিও যেখানে নেই?
স্বপ্নের চেয়ে নির্জন হল পাড়া…
কেউ না থাকলে স্বকীয়তা ভাঙবেই।
আয়নার কোনও দাম নেই, মুখ ছাড়া।

মানুষ চলেছে হাজার বছর পার-
তারা কেউ তবু জীবনানন্দ নয়
সিংহল নেই, নাটোরও অন্ধকার…
পথে নামে যারা, ঘর কি তাদের হয়?

এ কেমন পথ, তুমিও যেখানে চুপ?
দিক চলে গেছে প্রাচীন ভবিষ্যতে…
জেগে থাকা মানে সময়ের বিদ্রুপ
মড়কের নামে এখনও গুজব রটে।

আমরা ছিলাম এই গ্রহে ভালবেসে।
রক্তপাতের সাক্ষীও দরকার,
ভেলা ভেসে চলে শেষতম মহাদেশে
মানুষ চলেছে হাজার বছর পার…

তোমাকে বরং কাছ থেকে আজ দেখি।
জটিল দু’চোখে ক’খানা সরলরেখা,
তুমি বাঁচলেও, ভালবাসা বাঁচবে কি?
এসব প্রশ্ন পরাজয় থেকে শেখা।

হেরে যদি যাই, আর তো হবে না দেখা।
যাবার সময়ে কীসের যে এত তাড়া,
নিষ্প্রাণ গ্রহে দেয়ালে ঝুলবে একা…
আয়নার কোনও দাম নেই, মুখ ছাড়া।



ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী – Khudiram Bose Biography in Bengali

 

ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী – 

Khudiram Bose Biography in Bengali





ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী – Khudiram Bose Biography in Bengali : সুরেন্দ্রনাথ পরলােক গমন করলেন , কিন্তু তার প্রেরণা রয়ে গেল বাংলার তরুণদের মধ্যে । দেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার জন্যে এগিয়ে এলেন ক্ষুদিরাম ও আরও অনেকে । তারা ছিলেন অগ্নিযুগের শহীদ । ক্ষুদিরাম ছিলেন প্রথম শহীদ , যার নিভীকতা ও সাহস সবাইকে বিস্মিত করতাে ।

 অগ্নিকিশাের ক্ষুদিরাম বসু এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । ক্ষুদিরাম বসু এর জীবনী – Khudiram Bose Biography in Bengali বা ক্ষুদিরাম বসু এর আত্মজীবনী বা (Khudiram Bose Jivani Bangla. A short biography of Khudiram Bose. Khudiram Bose Birth, Place, Life Story, Life History, Biography in Bengali) ক্ষুদিরাম বসু এর জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ক্ষুদিরাম বসু কে ছিলেন ? Who is Khudiram Bose ?

ক্ষুদিরাম বসু (Khudiram Bose) ছিলেন একজন ভারতীয়-বাঙালি বিপ্লবী যিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করেছিলেন। ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল চাকির সঙ্গে মিলে গাড়িতে ব্রিটিশ বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড আছে ভেবে তাকে গুপ্তহত্যা করার জন্যে বোমা ছুঁড়েছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড অন্য একটা গাড়িতে বসেছিলেন, যে ঘটনার ফলে দুজন ব্রিটিশ মহিলার মৃত্যু হয়, যারা ছিলেন মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা। প্রফুল্ল চাকি গ্রেপ্তারের আগেই আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম গ্রেপ্তার হন। দুজন মহিলাকে হত্যা করার জন্যে তার বিচার হয় এবং চূড়ান্তভাবে তার ফাঁসির আদেশ হয়।

অগ্নিকিশাের ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী – Khudiram Bose Biography in Bengali :

নাম (Name)ক্ষুদিরাম বসু (Khudiram Bose)
জন্ম (Birthday)৩ ডিসেম্বর ১৮৮৯ (3rd December 1889)
জন্মস্থান (Birthplace)মেদিনীপুর 
অভিভাবক (Parents)/পিতামাতাত্রৈলোক্যনাথ বসু ও লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী
জাতীয়তাভারতীয়
পরিচিতির কারণভারতীয় বিপ্লবী
আন্দোলনভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন
পেশা (Occupation)Freedom fighter
মৃত্যু (Death)১১ আগস্ট ১৯০৮ (11th August 1908)
মৃত্যুর কারণমৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি)

ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম – Khudiram Bose Birthday :

 ক্ষুদিরামের জন্ম হয় ১৮৮৯ সালের ৩ রা ডিসেম্বর মেদিনীপুর জেলার মোহবনী গ্রামে । এর আগে তার দুই ভাই মারা যায় , তাই ক্ষুদিরামের বড় দিদি অপরূপা দেবী তিন মুঠো ক্ষুদ দিয়ে তার এই ভাইটিকে কিনে নেন। 

ক্ষুদিরাম বসুর শৈশবকাল – Khudiram Bose Childhood : 

 ক্ষুদ দিয়ে তাকে কেনা হয়েছিল বলে তার নাম দেওয়া হয় ক্ষুদিরাম । খুব ছােটবেলাতেই ক্ষুদিরাম তার মা – বাবাকে হারিয়েছিলেন । তার দিদি তাকে মানুষ করতে থাকেন । তার স্নেহ ভালােবাসায় ক্ষুদিরাম ক্রমশ বড় হয়ে উঠলেন । তার জামাইবাবু তখন তমলুকের দেওয়ানী আদালতের সেরেস্তাদার । অপরূপা দেবীর স্বামী অমৃতলালবাবুর চাকরীতে মাঝে মাঝে বদলী হতাে । এই বদলীর চাকরী তাকে কোনাে জায়গায় স্থির থাকতে দিতনা । ফলে ক্ষুদিরামও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারতেন । 

ক্ষুদিরাম বসুর শিক্ষাজীবন – Khudiram Bose Education Life :

 যখন অমৃতলাল মেদিনীপুরে বদলী হয়েছেন তখন তাকে ভর্তি করা হল মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে । এইস্কুলেরই একজন শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসু । তার চেষ্টায় বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলন খুব জোরালাে হয়ে উঠছিল । তিনি চাইছিলেন অল্পবয়সী ছেলেদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলতে । তার এই দলে এসে যােগ দিলেন ক্ষুদিরাম । তারপর থেকেইতার জীবনেও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন দেখা দিল । ক্ষুদিরাম হয়ে উঠলেন অন্য মানুষ । লাঠিখেলা শিখলেন , ব্যায়ামের দ্বারা শরীরকে আরাে মজবুত করে তুললেন তিনি । তার সংকল্প ছিল গ্রামের সকল মানুষকে সত্যিকারের মানুষ করে তােলা ।

ক্ষুদিরাম বসুর কর্মজীবন – Khudiram Bose Work Life :

 ক্ষুদিরামের প্রাণ ছিল দরদী । আর তার মধ্যে ছিল মানুষের প্রতি গভীর ভালােবাসা । কারও অসুখ শুনলে ক্ষুদিরামের প্রাণ কেঁদে উঠতাে । জনগণের সেবা করাই ছিল তার ব্রত । আবার কখনও কাউকে উপবাসী দেখলে তিনি সেখানে দৌড়ে যেতেন দুটি অন্নের ব্যবস্থা করতে । প্রকৃতির নানা দুর্যোগেও মানুষের সাহায্যের জন্য তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করতেন । 

স্বদেশী আন্দোলন ও ক্ষুদিরাম এর ভূমিকা – The role of Khudiram Bose in Swadeshi movement : 

 তখন স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়েছে । চারিদিকে বিদেশী জিনিসের বয়কট চলেছে । বিলিতি কাপড় , বিলিতিনুন লুঠকরার কাজে নেতারা লেগে গেলেন । চারিদিকে ব্রিটিশ জাতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হল । এই সময়ে মেদিনীপুরে একটি শিল্পমেলা বসলাে । ১৯০৬ খ্রি : মেদিনীপুরে মারাঠা কেল্লায় কৃষি – শিল্প প্রদর্শনী মেলা বসে । এই মেলা প্রাঙ্গনে সােনার বাংলা নামে বিপ্লবী পুস্তিকা বিলি করতে গিয়ে ক্ষুদিরাম প্রথম রাজনৈতিকআভিযােগে অভিযুক্ত হন । ক্ষুদিরাম হঠাৎ সেই সময়ে পুলিশের বাধা পেয়ে তার বুকে এক প্রচন্ড আঘাত করে পালিয়ে গেলেন । কেউ তাকে ধরতে পারলাে না । একদিন তিনি ধরা পড়লেন।তখন প্রায় তিন মাস পার হয়ে গেছে । বিপ্লবীদের এই বই কোথা থেকে বেরিয়েছে সেই গােপন কথা জানবার জন্যে পুলিশ ক্ষুদিরামের উপর খুব অত্যাচার শুরু করলাে , কিন্তু একটি কথাও তিনি প্রকাশ করলেন না । মুখ বুজে সবই সহ্য করলেন । তখন সরকার ক্ষুদিরামকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হল । এরপর থেকে তার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লাে । বাংলার বিপ্লবীদের মুখে মুখে । ক্ষুদিরামের প্রশংসা শােনা গেল ।

কিংসফর্ড কে হত্যা করার পরিকল্পনা – Plan to kill Kingsford :

 তখন মেদিনীপুরের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন কিংসফোর্ড । এই ইংরেজ প্রশাসক ভারতীয়দের উপর নানা অত্যাচার শুরু করল । বিপ্লবীমহলে এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে বেশ ক্ষোভ দেখা দিল । মাত্র বার বছরের বালক সুশীল সেনকে বিনা অপরাধে নির্মমভাবে প্রহার করায় বিপ্লবীদের মধ্যে ক্রোধের দাবানল জ্বলে উঠলাে । তারা এই অত্যাচারকে মেনে নিতে পারলেন না । এক গােপন সভায় তারা ঠিক করলেন অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে । আর তার ভার দেওয়া হল ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর উপর । হাসিমুখে তারা নেতাদের সেই নির্দেশ মেনে নিলেন । ততদিনে কিংসফোর্ড 

বিহারের মজঃফরপুরে বদলী হয়ে এসেছেন । সেটা ১৯০৮ সালের কথা । 

কিংসফর্ড কে হত্যা করার দ্বিতীয় পরিকল্পনা – second Plan to Kill Kingsford :

 এদিকে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী মজঃফরপুরে এক ধর্মশালায় এসে উঠলেন । তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেখান থেকে কিংসফোর্ডের গতিবিধি লক্ষ্য করা । তারা লক্ষ্য করলেন প্রতিদিন রাত আটটায় কিংসফোর্ড একটি ফিটন গাড়িতে ক্লাব থেকে বাড়ি ফেরেন । বিপ্লবীরা এই অনুযায়ী তাদের পরিকল্পনা ঠিক করলেন । সেদিন ছিল নিঃঝুম রাত ১৯০৮ সালের ৩০ শে এপ্রিল । যে পথে কিংসফোর্ড সাহেব ফিরতেন সেখানে একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে রইলেন ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী । তারা ঐ ফিটন গাড়ি আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন । একটু পরেই গাড়ির শব্দ শােনা গেল । সঙ্গে সঙ্গে তারা গাড়ির দিকে বােমা ছুঁড়লেন । আগুন ধরে গেল ঐ ফিটন গাড়িতে । ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল দুজনেই খুব খুশি হয়ে বাড়ি ফিরলেন । কিন্তু তাদের হিসাবে একটু ভুল হয়েছিল । যে গাড়ি লক্ষ্য করে ওঁরা বােমা ছুঁড়েছিলেন সে গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না । ছিলেন ব্যারিস্টার কেনেডি সাহেবের স্ত্রী ও মেয়ে । আঘাত পেয়ে তারা মারা গেলেন । এইসংবাদ শহরের সর্বত্র দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ল । সবাই বুঝল এটা বিপ্লবীদেরই কাজ । বিশেষ করে পুলিশের একথা বুঝতে দেরি হল না । আশেপাশে সবখানে তারা টহল দিতে লাগলাে । তাদের কড়া পাহারা এড়াতে পারলেন না ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল । একে একে দুজনেই ধরা পড়লেন । তবে ধরা পড়ার আগেই প্রফুল্ল আত্মহত্যা করলেন , আর ক্ষুদিরাম তা না পেরে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন ।

ক্ষুদিরাম এর ফাঁসি – Khudiram The death penalty (Hanging) :

 ক্রমে বিচারের দিন ঘনিয়ে এল । আর ফাসির দিন ধার্য হল ১৯০৮ সালের ১১ ই আগস্ট । সেই দিন খুব ভােরে ক্ষুদিরাম উঠে পড়লেন , ভাবছিলেন তাকে পৃথিবী থেকে চিরদিনের জন্যে বিদায় নিতে হবে । অথচ সবাইকে ছেড়ে যেতে তার মন সরছিল না । কিন্তু নির্ভীক হৃদয়ে তিনি ফঁাসির জন্যে তৈরি হলেন । মনের মধ্যে তিনি যেন একটা শক্তির সন্ধান পেয়েছিলেন । তাই ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও তিনি ছিলেন নির্ভীক । হাসি মুখে ফাসির দড়ি গলায় দিয়ে তিনি মৃত্যুকে বরণ করলেন । সবাই তা দেখে অবাক হয়ে গেল । হাসতে হাসতে মরণকে বরণ করা ক্ষুদিরামের পক্ষেই সম্ভব হয়েছিল । কারণ তিনি দেশকে এত ভালবাসতেন যে দেশের স্বাধীনতা আনার জন্যে

সব কিছু ত্যাগ স্বীকার করা তার পক্ষে কঠিন ছিল না । দেশমাতৃকার পায়ে নিজের প্রাণ আহুতি দিয়ে অমর হয়ে রইলেন । আর তার এই উজ্জ্বল উদাহরণে দেশের তরুণ তরুণী প্রেরণা লাভ করল । স্বাধীনতার বেদীতে ক্ষুদিরামের জীবনের এই উৎসর্গ উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে ।

 বাংলা কাব্যে , সাহিত্যে , সঙ্গীতে ও ইতিহাসের পাতায় এই আত্মবলিদানের মধ্য দিয়েই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে আছেন ।

ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Khudiram Bose Biography in Bengali (FAQ):

  1. ক্ষুদিরাম বসু কবে জন্মগ্রহণ করেন?

Ans: ক্ষুদিরাম বসু জন্মগ্রহণ করেন ৩ ডিসেম্বর ১৮৮৯ সালে ।

  1. ক্ষুদিরাম বসু কোথায় জন্মগ্রহণ করেন ?

Ans: মেদিনীপুর জেলার মোহবনী গ্রামে ক্ষুদিরাম বসু জন্মগ্রহণ করেন।

  1. ক্ষুদিরাম বসুর পিতার নাম কী ?

Ans: ক্ষুদিরাম বসুর পিতার নাম ত্রৈলোক্যনাথ বসু ।

  1. ক্ষুদিরাম বসুর মাতার নাম কী ?

Ans: ক্ষুদিরাম বসুর মাতার নাম বসলক্ষ্মীপ্রিয় দেবী ।

  1. ক্ষুদিরাম বসু কার কাছে মানুষ হোন ?

Ans: ক্ষুদিরাম বসু তার মাসীর কাছে ।

  1. ক্ষুদিরাম বসু কাকে মারার পরিকল্পনা করেন ?

Ans: কিংসফর্ড কে ।

  1. ক্ষুদিরাম বসু কে ছিলেন ?

Ans: ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন ভারতীয় বিপ্লবী ।

  1. ক্ষুদিরাম বসুকে মৃত্যুদণ্ড কবে দেওয়া হয় ?

Ans: ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদণ্ড হয় ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ।

  1. কিংসফর্ডকে কারা মারতে গেছিলেন ?

Ans: ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি ।

  1. কি জন্য তার নাম ক্ষুদিরাম ?

Ans: ক্ষুদ দিয়ে তাকে কেনা হয়েছিল বলে তার নাম দেওয়া হয় ক্ষুদিরাম ।