Education makes a door to bright future

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education is a way to success in life

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education is a best friend goes lifelong

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education makes a person a responsible citizen

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Education is a key to the door of all the dreams

University admission and others information,International Scholarships, Postgraduate Scholarships, College Scholarship, Study Abroad Financial Aid, Scholarship Search Center and Exam resources for PEC, JSC, SSC, HSC, Degree and Masters Examinees in Bangladesh with take from update sports News, Live score, statistics, Government, Private, current Job Circular take from this site

Monday, November 8, 2021

আব্বাস উদ্দিনের জীবনী – Abbasuddin Ahmed Biography in Bengali

 

আব্বাস উদ্দিনের জীবনী – 

Abbasuddin Ahmed Biography in Bengali




আব্বাস উদ্দিনের জীবনী – Abbasuddin Ahmed Biography in Bengali : পল্লীগীতি , ভাওয়াইয়া , ভাটিয়ালী গানের ক্ষেত্রে আব্বাসউদ্দিন যে খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেছিলেন , তা এক কথায় তুলনাহীন । ভাটিয়ালী ও পল্লীগীতির গায়ক হিসাবে ইতিহাসে আব্বাস উদ্দিন (Abbasuddin Ahmed) চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন । আব্বাস উদ্দিনের (Abbasuddin Ahmed) কণ্ঠে যে যাদু ছিলাে , তেমন জাদু আর কারাে কণ্ঠে দেখা যায়নি । আব্বাসউদ্দিন কোনাে রাজসভার গায়ক ছিলেন না , আব্বাস উদ্দিন (Abbasuddin Ahmed) বিভিন্ন সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে যেতেন । তিনি যে সভায় গান গাইতে যেতেন , সে সভায় যেন মানুষের ঢল নামতাে । আব্বাস উদ্দিন (Abbasuddin Ahmed) সাধারণ মানুষ থেকে শহুরে মানুষ সবার প্রিয় অতিপ্রিয় গায়ক ছিলেন । নজরুলের ইসলামী ভাবধারার গানকেও তিনি জনপ্রিয় করেছিলেন । 

 পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালী সঙ্গীতের অমর কণ্ঠশিল্পী আব্বাস উদ্দিনের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । আব্বাস উদ্দিন জীবনী – Abbasuddin Ahmed Biography in Bengali বা আত্মজীবনী বা জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আব্বাস উদ্দিন কে ছিলেন ? Who is Abbasuddin ?

আব্বাস উদ্দিন (Abbasuddin Ahmed) ছিলেন একজন বাঙালি লোক সঙ্গীতশিল্লী, সঙ্গীত পরিচালক, ও সুরকার। সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি মরণোত্তর প্রাইড অফ পারফরম্যান্স (১৯৬০), শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৯) এবং স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন।

পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালী সঙ্গীতের অমর কণ্ঠশিল্পী আব্বাস উদ্দিনের সংক্ষিপ্ত জীবনী – Abbasuddin Ahmed Biography in Bengali :

নাম (Name)আব্বাসউদ্দীন আহমদ (Abbasuddin Ahmed)
জন্ম (Birthday)২৭ শে অক্টোবর ১৯০১ (27th October 1901)
জন্মস্থান (Birthplace)তুফানগঞ্জ, কুচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ
অভিভাবক (Parents)/ পিতামাতা জাফর আলী আহমদ
পেশা (Occupation)লোকসঙ্গীত শিল্পী, সরকারী কর্মকর্তা,
দম্পতসঙ্গী (Spouse)লুৎফুন্নেসা
পরিচিতির কারণগায়ক, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক 
পুরস্কারস্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮১)
সন্তানমােস্তফা কামাল ও ফেরদৌসী রহমান
মৃত্যু (Death) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৯ (30th December 1959)

আব্বাস উদ্দিনের জন্ম – Abbasuddin’s Birthday :

 এই অমর কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দিন ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার বলরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি শৈশবে বলরামপুরে , কুচবিহারে এবং রাজশাহীতে লেখাপড়া করেন । 

আব্বাস উদ্দিনের পিতামাতা – Abbasuddin’s Parents :

তাঁর পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতের উকিল।

তাঁর দুই সন্তান ফেরদৌসী রহমান এবং মুস্তাফা জামান আব্বাসী। দুজনও গান গেয়ে খ্যাতি লাভ করেছেন।।

আব্বাস উদ্দিনের সঙ্গীত রচনা – Abbasuddin’s Songs :

  কাজী নজরুল ইসলামের সহায়তায় কলকাতায় গিয়ে তিনি গ্রামােফান রেকর্ডে গান করেন । তার রেকর্ডকরা গানের সংখ্যা প্রায় সাতশাে । তিনিই লােকসঙ্গীতকে শহুরে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তােলেন । তার প্রথম ও দ্বিতীয় রেকর্ডকরা গান যথাক্রমে কোন ‘কোন বিরহের নয়ন জলে/ /বাদল ঝরে গো’। স্মরণ পারে ওগো প্রিয় /তােমার মাঝেই আপনহারা ‘। 

 আব্বাসউদ্দিনের কণ্ঠে লােকগীতির নানা রূপই খুবই সুখশ্রাব্য ও শ্রুতিমধুর হতাে । ভাটিয়ালী , ভাওয়াইয়া , জারি , সারি , মুর্শিদী , দেহতত্ত্ব , বিচ্ছেদি , চা , ক্ষিরােল প্রভৃতি নানা শ্রেণীর অজস্র লােকগীতি গেয়েছেন তিনি । বিখ্যাত দোতারা বাদক কানাইলাল শীল আব্বাসউদ্দিনকে লােকগীতি প্রচারে ও প্রসারে বিশেষ সহায়তা করেন ।

সিনেমা জগতে আব্বাস উদ্দিন – Abbasuddin’s Movies :

 আব্বাসউদ্দিন দেখতে খুব সুদর্শন ছিলেন । তিনি কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন । ছবিগুলাে হচ্ছে — বিষ্ণুমায়া , মহানিশা , একটি কথা ও ঠিকাদার। 


আব্বাস উদ্দিনের সন্তান ও স্ত্রী–Abbasuddin’s Wife and Childrens :

 আব্বাসউদ্দিনের স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নেসা । সঙ্গীতশিল্পী মােস্তফা জামান আব্বাসী , ব্যারিস্টার মােস্তফা কামাল ও ফেরদৌসী রহমান আব্বাস উদ্দিনের সুযােগ্য পুত্র কন্যা । 

 ১৯৪৭ সালে আব্বাসউদ্দিন কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন । এবং এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন । 

আব্বাস উদ্দিনের মৃত্যু – Abbasuddin’s Death :

 ১৯৫৪ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর আব্বাসউদ্দিন ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

আব্বাস উদ্দিনের জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Abbasuddin’s Biography in Bengali (FAQ):

  1. আব্বাস উদ্দিন কবে জন্মগ্রহণ করেন?

Ans: ১৭ অক্টোবর ১৯০১ সালে ।

  1. আব্বাস উদ্দিনের পিতার নাম কী?

Ans: জাফর আলী আহমদ ।

  1. আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রীর নাম কী?

Ans: লুৎফুন্নেসা ।

  1. আব্বাস উদ্দিনের উল্লেখযোগ্য পুরস্কার কী?

Ans: স্বাধীনতা পুরস্কার ।

  1. আব্বাস উদ্দিন কত সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান?

Ans: ১৯৮১ সালে ।

  1. আব্বাস উদ্দিন কত সালে কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় আসেন?

Ans: ১৯৪৭ সালে ।

  1. আব্বাস উদ্দিনের অভিনয় করা ছবির নাম কী?

Ans: বিষ্ণুমায়া , মহানিশা , একটি কথা ও ঠিকাদার ।

  1. আব্বাস উদ্দিন কার সহায়তায় গান রেকর্ড করেন?

Ans: কাজী নজরুল ইসলামের সহায়তায় ।

  1. আব্বাস উদ্দিনের প্রথম রেকর্ড করা গান কী?

Ans: ‘কোন বিরহের নয়ন জলে/ /বাদল ঝরে গো’। স্মরণ পারে ওগো প্রিয় /তােমার মাঝেই আপনহারা ‘। 

  1. আব্বাস উদ্দিন কত সালে মারা যান?

Ans: ১৯৫৪ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর ।




সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনী – Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali

 

সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনী – 

Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali




সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনী – Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali : একটি ছােট ছেলে বয়স মাত্র ন – দশ বছর তখন সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েন । এই বয়সেই সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) ছড়া লিখতে আরও করেন ।

 কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনী – Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali বা সুকান্ত ভট্টাচার্যের আত্মজীবনী বা সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সুকান্ত ভট্টাচার্য কে ছিলেন ? Who is Sukanta Bhattacharya ? 

সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

 অন্নবয়স থেকেই তিনি কৃষকের , শ্রমিকের , সর্বহারার কথা ভাবতেন । ধনীর অত্যাচারে নিপীড়িত , যারা দুবেলা খেতে পায় না , উদয়া পরিশ্রম করেও যারা ছেলেমেয়েকে আহার , বস্ত্র দিতে পারে , তাদের কথাই ছেলেটি সব সময় চিন্তা করত । তাদের নিয়েই তাত্ব ছড়া , কবিতা ও আলােচনা ।

কে এই ছেলেটি ? এই ছেলেটিই কিশাের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) । 

 তার এত অল্পবয়সের লেখা দেখে তার পরিবারের সবাই খুব প্রশংসা করত । সুকান্তের কবি প্রতিভা দেখে সকলে বিস্ময় প্রকাশ | 

 এই কিশাের কবির সুমহান চিন্তা একমাত্র মনীষীদের মধ্যে দেখা যায় । তিনি অল্পদিনের 

মধ্যে দেশকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন ।

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী – Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali : 

নাম (Name)সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) 
জন্ম (Birthday)১৫ আগস্ট ১৯২৬ (15th August 1926)
জন্মস্থান (Birthplace)কলকাতা, ভারত
অভিভাবক (Parents)/পিতামাতা নিবারণ চন্দ্র ভট্টাচাৰ্য্য ও সুনীতি দেবী 
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়
সময়কাল১৯৪০ – ১৯৪৭
উল্লেখযোগ্য রচনাবলীছাড়পত্র (১৯৪৭) পূর্বাভাস (১৯৫০) ঘুম নেই (১৯৫০)
মৃত্যু (Death) ১৩ মে ১৯৪৭ (13th May 1947)

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম – Sukanta Bhattacharya Birthday :

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম হয় ১৯২৬ খ্রীঃ ১৫ ই আগস্ট ( ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের ৩০ শে শ্রাবন ) । তিনি কলকাতায় কালিঘাটে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের পিতামাতা – Sukanta Bhattacharya Parents :

 বাবার নাম ছিল নিবারণচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য্য ও মাতার নাম সুনীতি দেবী। তার নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায় । তার পূর্বপুরুষরা ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় এসে বেলেঘাটা অঞ্চলে বসবাস করেন । যজন – যাজন ছিল পারিবারিক বৃত্তি ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের শৈশব – Sukanta Bhattacharya Childhood : 

 সুকান্ত অনেক বাইরের বই পড়তেন । কিন্তু তার মধ্যে বহু ছড়ার বইও পড়তেন।তার মাতাকে রামায়ণ , মহাভারত পড়ে শুনাতেন । তিনি মন দিয়ে তা শুনতেন।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের শিক্ষাজীবন – Sukanta Bhattacharya Education Life :

 বেলেঘাটায় কমলা বিদ্যামন্দির ’ নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুকান্তকে ভর্তি করে দেওয়া হল । এখানে তিনি পড়াশুনা করতে লাগলেন । শীঘ্রই মেধাবী ছাত্র বলে তিনি শিক্ষকদের স্নেহভাজন হন । 

সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রথম কবিতা – Sukanta Bhattacharya First poetry :

 সুকান্ত যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েন তখনই তিনি কবিতা ছড়া লিখতে আরম্ভ করেন । সেই সময় তিনি “সঞ্চয় ” নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করলেন । তাঁর লেখা কবিতা ওই সময় ‘ শিখা ‘ নামে একটি পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল । 

 ছাপাঅক্ষরের্তার প্রথম প্রকাশিত রচনা “ বিবেকানন্দের জীবনী ” প্রকাশিত হয়েছিল শিখা পত্রিকায় ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের গীতিচিত্র রচনা – Sukanta Bhattacharya Lyric composition :

 সুকান্তের বয়স যখন মাত্র দশ – এগারাে বছর তখন ‘ রাখাল ছেলে ’ নামক একটি রূপক – গীতি চিত্র রচনা করলেন । এছাড়াও মধুমালতী ’ ও ‘ সূর্যপ্রণাম ‘ নামক দুটি গীতিচিত্রও রচনা করেছিলেন ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের পত্রিকা প্রকাশ – Sukanta Bhattacharya Magazine :

 প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়া শেষ হলে সুকান্ত বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুলে ভর্তি হলেন । এই স্কুলে যখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়েন তখন । তিনি ছাত্রদের লেখা ও ছবি নিয়ে হাতে লেখা একটি পত্রিকা বার করেন তার নাম ছিল ‘ সপ্তমিকা ‘। 

 শিক্ষকেরা সুকান্তের সাহিত্য সাধনায় বিশেষ উৎসাহ দান করতেন । এর মধ্যে সুকান্ত ভারতের কম্যুনিস্ট পার্টিতে যােগ দেন । 

 সুকান্তের সাহিত্য সাধনায় দারুণ অনুরাগ ছিল । তার মধ্যেই তিনি নানা সমাজসেবামূলক কাজে হাত দিয়েছিলেন । ছােট ছােট ছেলেমেয়েদের কোচিং ক্লাস খুলে পড়াতেন । 

 দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বিভীষিকাময় বিভ্রান্ত জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে সুকান্ত অনেক গান রচনা করেন । 

সুকান্ত ভট্টাচার্যের কর্মজীবন – Sukanta Bhattacharya Work Life :

 তিনি কম্যুনিস্ট পার্টির কাগজ বিক্রি করতেন । এই কাগজ বিক্রি করতে গিয়ে অনেক বিপদে পড়েন তিনি । এই সময়ই তার সত্যিকারের কবি জীবন শুরু হয় ।

 ভারতবর্ষ তখন পরাধীন । দেশের মানুষের দুঃখদুর্দশা ও অপমান বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন ।

” অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি।

জন্মেই দেখি ক্ষুদ্ধ স্বদেশ ভূমি ।।

এ দেশে জন্মে পদাঘাতি ই শুধু পেলাম। 

অবাক পৃথিবী ! সেলাম তামাক সেলাম ।।

 শুধু যুদ্ধনয় , মানুষের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠল ব্রিটিশ সরকার ও তৎকালীন কিছু ধনী সমাজের সৃষ্ট ১৩৫০ খ্রি:  তার সাথে ছিল ঝড় , বন্যা ও মহামারী । হাজার হাজার অসহায় মানুন না সে পেয়ে রাস্তায় মারা গেল । অত্যাচার । ব্রিটিশ সরকার তাদের দিকে ফিরেও তাকায় নি সেই সময় সুকান্তের কলম ঝলসে উঠল । তিনি দৃঢ়প্রতিজ হয়ে লিখলেন – 

   ” শােনরে মালিক , শােনরে মজুতদার 

   তােদের প্রাসাদে জমা হলাে কত মৃত মানুষের হাড় 

  আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই

  স্বজন হারানাে শশ্মশানে তোদের চিতা 

  আমি তুলবই।” 

সুকান্ত তার সংক্ষিপ্ত জীবনকালের মধ্যে যা দেশকে দিয়ে গেছেন তা আজ সকলের কাছেই বিস্ময় ।

 কিছুদিনের মধ্যে কিশাের ‘ বাহিনী ‘নামে এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলেন । অনেক ছেলেমেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়েছিল । সুকান্ত এইসব ছেলেমেয়েদের স্বাধীনতার আদর্শে ও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে অনুপ্রাণিত করেছিলেন । 

 কমুনিস্ট পার্টির দৈনিক পত্রিকা ছিল ‘ স্বাধীনতা ‘ । এই পত্রিকায় ‘ কিশাের সভা ‘ বিভাগের সম্পাদক ছিলেন সুকান্ত । কিশাের সম্ভার সব ছড়াগুলিই ছিল সুকান্তের লেখা । সুকান্তের লেখা গান ‘ রানার ‘ আমাদের সুপরিচিত । তিনি শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনে নিজেকে সামিল করেছিলেন । 

 সুকান্তের ‘ বিদ্রোহ ‘ কবিতাটি পড়ে আজও অনেকে অনুপ্রাণিত হন । 

 সুকান্তের জীবন অতিবাহিত হয়েছিল অত্যন্ত আর্থিক অনটন ও পারিবারিক বিপর্যয়ের মধ্যে । তিনি স্কুলের গণ্ডী পার হতে চেয়েছিলেন ।

 কিন্তু অংকেকমনম্বর পাওয়ায় পরীক্ষা দিয়েও কৃতকার্য হতে পারেন নি । সংসারের চরম অনটনের মধ্যে থেকেও তার কলম থেমে থাকেনি। 

সুকান্ত ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য রচনাবলী – Sukanta Bhattacharya Noteble Works :

 ভারতের দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী সুকান্ত । তাই তার কবিতা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রচিত । আত্মবিশ্বাস , ঘৃণা , ক্ষোভ , ভবিষ্যতের আশা ও স্বপ্ন মিশ্রিত তার কবিতা প্রত্যেকের কাছেই প্রিয় । সুকান্ত আগামী দিনের ইতিহাসের প্রবক্তা । সুকান্তের কাব্যগ্রন্থ তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় । তাঁর ছাড়পত্র ১৯৪৭ – এ , ঘুম নেই । ১৯৫০ – এ , পূর্বরাগ ১৯৫০ – এ , গীতিগুচ্ছ । ১৩৭২ বঙ্গাব্দে , মিঠেকড়া ১৩৫৮ বঙ্গাব্দে , অভিযান ১৩৮৪ বঙ্গাব্দে , হরতাল ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয় । তার কতকগুলাে কবিতা যথা রানার , সিঁড়ি , ছাড়পত্র , হে মহাজীবন , বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যু – Sukanta Bhattacharya Death :

 তিনি টি . বি . রােগে আক্রান্ত হয়ে যাদবপুর টি . বি . হাসপাতালে । ভর্তি হন । তার লেখা শেষ কবিতার বই ‘ ছাড়পত্র ’ তখন ছাপা । হচ্ছিল । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ছাপা অক্ষরে ঐ বই আর দেখে যেতে পারেননি । 

 ১৯৪৭ খ্রিঃ ১৩ ই মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কিশাের কবি সুকান্ত অমৃতলােকে যাত্রা করেন । 

 বাংলা কাব্যের চিরায়ত ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ সুফল । তিনি তার কবিতায় আত্মসাৎ ও অন্তরস্থ করে নিতে পেরেছিলেন তার গ্রহিষ্ণু প্রতিভার দ্বারা সামাজিক অন্যায় ও অবিচার , শােষণ ও বঞ্চনা , সাম্রাজ্যবাদীদের শােষণ ও পীড়ন , ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাস ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার কবিতা ছিল সােচ্চার । প্রতিবাদ ও প্রতিরােধের বাণী তার রচনাতে তিনি উচ্চকণ্ঠেই সর্বদা লিপিবদ্ধ করেছেন ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Sukanta Bhattacharya Biography in Bengali (FAQ) :

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম কবে হয় ?

Ans : ১৫ আগস্ট ১৯২৬ সালে ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের পিতার নাম কী?

Ans : নিবারণ চন্দ্র ভট্টাচার্য ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের মায়ের নাম কী?

Ans : সুনীতি দেবী ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য কী কাজ করতেন ?

Ans : কমিউনিস্ট পার্টির কাগজ বিক্রি করতেন ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য রচনাবলী কী কী ?

Ans : ছাড়পত্র (১৯৪৭) পূর্বাভাস (১৯৫০) ঘুম নেই (১৯৫০)।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য কী রোগে মারা যান ?

Ans : টি. বি রোগে ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মস্থান কোথায় ?

Ans : কলকাতা ।

  1. ছারপত্র কবে প্রকাশ হয় ?

Ans : ১৯৪৭ সালে ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছোটবেলার স্কুলের নাম কী?

Ans : বেলেঘাটায় কমলা বিদ্যামন্দির ।

  1. সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যু কবে হয় ?

Ans : ১৯৪৭ সালে ১৩ মে ।





মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবনী – Michael Madhusudan Dutt Biography in Bengali

 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবনী – 

Michael Madhusudan Dutt Biography in Bengali






মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবনী – Michael Madhusudan Dutt Biography in Bengali : ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের যুগে বঙ্গ সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের আবির্ভাব হয়েছিল নূতন জীবনমন্ত্ৰ তেজ ও বীর্যের পূর্ণবেগ নিয়ে । মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন কাহিনী তার বর্ণময় সাহিত্যের মতই ছিল বহু বিচিত্র ও বিস্ময়কর । 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত কে ছিলেন?

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার এবং প্রহসন রচয়িতা। মধুসূদন দত্তকে বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব গণ্য করা হয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি হিসেবেও তিনি পরিচিত তাই তাকে বঙ্গ ভারতীর দামাল পুত্র মাইকেল মধুসূদন দত্ত বলা হয়।

বঙ্গ ভারতীর দামাল পুত্র মাইকেল মধুসূদন দত্তের সংক্ষিপ্ত জীবনী (Michael Madhusudan Dutt Short Biography in Bangali):

নাম (Name)মাইকেল মধুসূদন দত্ত (Michael Madhusudan Dutt)
জন্ম (Birthday)২৫ শে জানুয়ারি ১৮২৪ (25 January 1824)
জন্মস্থান (BirthPlace)যশােহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে
ছদ্দনাম (Pseudonym)টিমোথি পেনপোয়েম (Timothy Penpoem)
অভিভাবক (Guardian) / পিতা ও মাতা (Father and Mother)রাজনারায়ণ দত্ত (বাবা)

জাহ্নবীদেবী (মা)

Rajnarayan Dutt (Father), Jahnavi Devi (Mother)

দাম্পত্যসঙ্গী (Spouse)হেনরিতা সোফিয়া হোয়াইট 
পেশা (Career)কবি, নাট্যকার
সাহিত্য আন্দোলন (Literary movement)বাংলার নবজাগরণ (Bengal Renaissance)
মৃত্যু (Death)২৯ শে জুন ১৮৭৩ (29th June 1873)
মৃত্যুস্থানআলিপুর , কলকাতার এক হাসপাতালে

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম (Michael Madhusudan Dutt’s Birthday):

 যশােহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে ২৫ শে জানুয়ারি ১৮২৪ সালে মধুসূদনের জন্ম হয় । 

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশপরিচয় :

মাইকেল মধুসূদনের বাবা রাজনারায়ণ দত্ত একজন অবস্থাপন্ন উকিল ছিলেন । মধুসূদনের মা জাহ্নবীদেবী ছিলেন শিক্ষিতা মহিলা । প্রায় সাত বছর বয়স পর্যন্ত মধুসূদন মায়ের কাছেই লেখাপড়া করেন ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের শিক্ষাজীবন :

 মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাত বছর বয়সে কলকাতায় আসেন । এখানে এসে প্রথম দুবছর তিনি খিদিরপুর স্কুলে পড়েন । ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন । মধুসূদন খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন । স্কুলের পরীক্ষায় প্রতি বছর তিনি বৃত্তি পেতেন ।

 এই কলেজেই তিনি সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন ভূদেব মুখােপাধ্যায় , রাজনারায়ণ বসু , গৌরদাস বসাক , ভােলানাথ চন্দ্র প্রমুখদের । পরবর্তীকালে তারা সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে খ্যাতিমান হয়েছিলেন ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ব্যক্তিগত জীবন :

 মধুসূদনের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনে হিন্দু কলেজের শিক্ষাপর্বের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর । একদিকে তিনি যেমন লাভ করেছিলেন মানব – মন্ত্রে বিশ্বাস ও গভীর ইংরাজি সাহিত্য – প্রীতি ; তেমনি তার মনে সঞ্চারিত হয়েছিল দেশীয় আচার ও ভাবনার প্রতি অশ্রদ্ধা । কলেজে পড়ার সময় একটা প্রবন্ধ প্রতিযােগিতায় মধুসূদন স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন । সেই সময় থেকেই মধুসূদন ইংরেজিতে কবিতা লিখতেন । সে সময়কার ইংরেজি পত্রিকায় এসব কবিতা প্রকাশিত হত । ছেলেবেলায় মধুসূদন মায়ের মুখে রামায়ণ পাঠ শুনতেন । তখন থেকেই কবিতার সুর ও ছন্দের প্রতি মধুসূদনের বড় আকর্ষণ ছিল ।

 মধুসূদন যে সময়ে কলেজে পড়তেন , সে সময়টা আমাদের দেশে ইংরেজি শিক্ষার যুগ । এ যুগের অনেক ইংরেজি শিক্ষিত যুবক মনে করতেন ইংরেজদের ভাষা , ইংরেজদের আচার আচরণ , ইংরেজদের ধর্মই শ্রেষ্ঠ । মধুসূদনও তাই ইংরেজিতেই কবিতা লিখতেন , মনেপ্রাণে ইংরেজ হতে চাইতেন । ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ৯ ফেব্রুয়ারি ঊনিশ বছর বয়সে মধুসূদন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন । তখন তার নাম হয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিবাহ : 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ফরাসি মহিলা হেনরিয়েটাকে বিয়ে করেছিলেন এবং অনেক ইংরেজি কবিতা ও কাব্য লিখেছিলেন । Timothy Penpoem ছদ্মনামে সনেট গীতি কবিতা ও খন্ডকাব্য এই সময় তিনি লিখেছিলেন । The Visions of the past , The Cap tive Lady নামক দুটি দীর্ঘ কবিতা একসঙ্গে পুস্তকাকারে মাদ্রাজ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে । কিন্তু সুনাম অর্জন করতে পারেননি । অবশেষে মধুসূদন কলকাতায় ফিরে আসেন । কলকাতায় এসে তিনি বাংলায় অনেক নাটক , কবিতা ও কাব্য লেখেন । এগুলির মধ্যে মেঘনাদবধ কাব্য শ্রেষ্ঠ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ভাষাগত দক্ষতা:

মাইকেল মধুসূদন দত্ত একাধারে ছিলেন বহু ভাষাবিদ। শিশু কালে গ্রামের টোল থেকে তার ফারসি ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে ভাষা শিক্ষার শুরু হয়। তিনি ইংরেজি ছাড়াও ল্যাটিন, গ্রিক, ফারসি, হিব্রু, তেলেগু, তামিল ইত্যাদি ভাষায় অনায়াসে কথা বলতে পারতেন। তিনি এমনকি ফারসি ও ইতালীয় ভাষায় কবিতাও লিখতে পারতেন। মাতৃভাষা ছাড়া তিনি আরো বারোটি ভাষা জানতেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য :

মধুসূদন দত্তের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে — অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণ উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্যটি। চরিত্র-চিত্র হিসেবে রয়েছেন : রাবণ, ইন্দ্রজিৎ, সীতা, সরমা, প্রমীলা প্রমুখ। তিনি তার কাব্যকে অষ্টাধিক সর্গে বিভক্ত করেছেন এবং সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্র অনুযায়ী এতে নগর, বন, উপবন, শৈল, সমুদ্র, প্রভাত, সন্ধ্যা, যুদ্ধ, মন্ত্রণা প্রভৃতির সমাবেশও করেছেন। কিন্তু সর্গান্তে তিনি নতুন ছন্দ ব্যবহার করেন নি, সর্গশেষে পরবর্তী সর্গকথা আভাসিত করেন নি। যদিও তিনি বলেছিলেন,

“গাইব মা বীররসে ভাসি মহাগীত”

তবুও কাব্যে করুণ রসেরই জয় হয়েছে। মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণ-আহৃত কাহিনীর পুণরাবৃত্তি নয়—এটি নবজাগ্রত বাঙালির দৃষ্টি নিয়তি-লাঞ্ছিত নবমানবতাবোধের সকরুণ মহাকাব্যের রূপে অপূর্ব গীতি-কাব্য। মেঘনাদবধ কাব্য এ দিক দিয়ে বাংলা কাব্য সাহিত্যে একক সৃষ্টি।

 বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের সৃষ্টিও আকস্মিক ঘটনা । রাজা যতীন্দ্ৰমাহন ঠাকুর বলেছিলেন ফরাসী ভাষার মতাে উন্নত ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ রচনা করা হয়নি । সুতরাং বাংলাভাষার মতাে সরলভাষায় অমিত্রাক্ষরের গাম্ভীর্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় । প্রসঙ্গত গুপ্ত কবির ব্যঙ্গ রচনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন 

“ কবিতা কমলা কলা পাকা যেন কাঁদি

 ইচ্ছা হয় যত পাই পেট ভরে খাই ।”

মধুসূদন জবাব দিয়েছিলেন এটাই একমাত্র কারণ নয় যেহেতু বৃদ্ধ ঈশ্বরগুপ্ত অমিত্রাক্ষর রচনা করতে পারেন নি বলে আর কেউ পারবে না ।

 কবি তার বিশ্বাস , আত্মপ্রত্যয় , অনমনীয় দৃঢ়তা আর অমিত্রাক্ষর ছন্দের গূঢ়তত্ত্বের উপলব্ধির বলে পুরােপুরি অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখলেন  “ তিলােত্তমাসম্ভব কাব্য” । বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এ এক যুগান্তকারী ঘটনা । তিলােত্তমা সম্ভব ’ – এ যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের পরীক্ষা তার পরিণতি লাভ ঘটলাে মধু কবির অমর কাব্য ‘ মেঘনাদ বধ কাব্যে ’ । বাংলা শব্দভান্ডার থেকে জানা অজানা শব্দ চয়ন করে তিনি এত সুন্দরভাবে এ – কাব্যে ব্যবহার করলেন যে করুণ ও বীররসের গঙ্গা – যমুনার সঙ্গম -তীর্থস্বরূপ হয়ে উঠলাে এ কাব্য । এই কাব্যে কবি রাক্ষসবীর রাবণ ও মেঘনাদকে রাক্ষস রূপে আঁকেন নি । সকলকেই মানুষরূপে , ভাগ্যবিড়ম্বিত রূপে এঁকেছেন । তারা আমাদের সহানুভূতি পেয়েছে । উনবিংশ শতাব্দীর নব – রামায়ণ সৃষ্টি হয়েছে ।

 এরপর কবি সৃষ্টি করলেন ব্রজাঙ্গনাকাব্য ’ , ‘ বীরঙ্গনা কাব্য ’ এবং ‘ চতুদর্শ পদী কবিতাবলী ’ । কিন্তু এত সৃষ্টি করেও কবি আশানুরূপ খ্যাতি বা যশ লাভ করতে পারেন নি । পুস্তক বিক্রয়ের আয় , আদালতের চাকরী ও পৈতৃক সম্পত্তি অমিতব্যয়ী মধুসূদনের অর্থাকাঙ্খ মিটাতে পারে নি । ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুব শান্তি পান নি । এই ব্যর্থতারই করুণ কাহিনী তারই লেখা ‘ আত্মবিলাপ কবিতায় বাণীরূপ লাভ করেছে ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম :

মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্য –   

তিলোত্তমা সম্ভব, ১৮৬৩

দ্য ক্যাপটিভ লেডি, ১৮৪৯

ব্রজাঙ্গনা কাব্য, ১৮৬১

মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য –   

মেঘনাদবধ কাব্য, ১৮৬১

মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট –   

চতুর্দশপদী কবিতাবলী, ১৮৬৫

মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য –   

বীরাঙ্গনা, ১৮৬২

মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক –   

শর্মিষ্ঠা ১৮৫৯ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।

কৃষ্ণকুমারী ১৮৬১

পদ্মাবতী ১৮৬০

মায়াকানন

মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন –   

বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ ১৮৬০

একেই কি বলে সভ্যতা ১৮৬০

মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরলোক গমন:

১৮৭৩ খ্রি : ২৯ শে জুন কবির জীবন – সঙ্গিনী হেনরিয়েটা মারা গেলেন । হেনরিয়েটার মৃত্যুতে কবি ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েন । তিন দিন পরে তিনিও হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন । সে দিনটি হল ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ শে জুন রবিবার । বঙ্গ ভারতীর দামাল পুত্র কবি মধুসূদন ভিক্ষুকের মতাে নিঃস্ব অবস্থায় আলিপুর , কলকাতার এক হাসপাতালে পরলােক গমন করেন । এ প্রসঙ্গে কবিবন্ধু নবীন সেনের বিলাপ স্মরণীয়-

‘ অযত্নে মা অনাদরে 

বঙ্গ কবিকুলেশ্বরে , 

ভিক্ষুকের বেশে মাতঃ দিয়াছ বিদায় । 

কবির দেহসমাধিস্থ করা হল কলকাতার লােয়ার সার্কুলার রােডের সমাধিক্ষেত্রে । তার সমাধিক্ষেত্রে কবির নিজেরই লেখা একটি কবিতা স্মৃতিফলকে খােদিত করে দেওয়া হল ।

 “ দাঁড়াও , পথিকবর ! জন্ম যদি তব

 বঙ্গে ! তিষ্ঠ ক্ষণকাল ! এ সমাধিস্থলে 

( জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি

 বিরাম ) মহীর পদে মহানিদ্রাবৃত

 দত্ত কুলােদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন !

 যশােরে সাগরদাঁড়ি কপােতাক্ষ তীরে

 জন্মভূমি , জন্মদাতা দত্ত মহামতি

 রাজনারায়ণ নামে , জননী জাহ্নবী !

 কবি মধুসূদন আর এ পৃথিবীতে নেই । কিন্তু তিনি যে নবযুগের সৃষ্টি করেছিলেন , অরুণােদয়ের যে রক্তিম আভা নিয়ে বাংলা সাহিত্যাকাশে উদিত হয়েছিলেন , তা তাঁর কাব্যের মাধ্যমে আজও অম্লান হয়ে রয়েছে । বাঙালীর হৃদয়মন্দিরে কবি মধুসূদনের নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত – Michael Madhusudan Dutt FAQ :

  1. মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম কবে ও কোথায় হয়?

Ans: যশােহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে ২৫ শে জানুয়ারি ১৮২৪ সালে মধুসূদনের জন্ম হয় । 

  1. মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম কি?

Ans: টিমোথি পেনপোয়েম।

  1. মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি কি?

Ans: মধুসূদন দত্তের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে — অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণ উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্যটি।

  1. মাইকেল মধুসূদনের বাবার নাম কি ও তিনি কি ছিলেন?

Ans: মাইকেল মধুসূদনের বাবার নাম  রাজনারায়ণ দত্ত ।তিনিএকজন অবস্থাপন্ন উকিল ছিলেন । 

  1. মাইকেল মধুসূদনের মার নাম কি ও তিনি কি ছিলেন?

Ans: মধুসূদনের মা জাহ্নবীদেবী। তিনি ছিলেন শিক্ষিতা মহিলা ।

  1. মধুসূদন এর নাম কিভাবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত হয়?

Ans: ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ৯ ফেব্রুয়ারি ঊনিশ বছর বয়সে মধুসূদন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন । তখন তার নাম হয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত ।

  1. মাইকেল মধুসূদন দত্তএর স্ত্রী নাম কি ছিল?

Ans: হেনরিয়েটা। তিনি একজন ফরাসি মহিলা ছিলেন।

  1. মেঘনাদবধ কাব্য চরিত্রে কে কে আছে?

Ans: চরিত্র-চিত্র হিসেবে রয়েছেন : রাবণ, ইন্দ্রজিৎ, সীতা, সরমা, প্রমীলা প্রমুখ।

  1. মেঘনাদবধ  কাব্যকে তিনি কটি সর্গে বিভক্ত করেছেন?

Ans: অষ্টাধিক সর্গে বিভক্ত করেছেন।

  1. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটকের নাম কি?

Ans: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটকের নাম শর্মিষ্ঠা।

Sunday, November 7, 2021

জীবনানন্দ দাশ জীবনী – Jibanananda Das Biography in Bengali

 

জীবনানন্দ দাশ জীবনী – 

Jibanananda Das Biography in Bengali






জীবনানন্দ দাশ জীবনী – Jibanananda Das Biography in Bengali : আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যে রবীন্দ্ৰত্তর যুগে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ । রূপময় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das) বাংলা কাব্যে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন । 

 রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । জীবনানন্দ দাশ জীবনী – Jibanananda Das Biography in Bengali বা জীবনানন্দ দাশের আত্মজীবনী বা জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

জীবনানন্দ দাশ কে ছিলেন ? Who is Jibanananda Das ?

জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das) বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম।

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ এর জীবনী – Jibanananda Das Biography in Bengali :

নাম (Name)জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das)
জন্ম (Birthday)১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ (17th February 1899)
জন্মস্থান (Birthplace)বরিশাল (বর্তমান বাংলাদেশ)
অভিভাবক (Parents)/ পিতা ও মাতাসত্যানন্দ দাশ (বাবা)

কুসুমকুমারী দেবী (মা)

পেশা (Occupation)কবি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, গীতিকার, সম্পাদক, অধ্যাপক
কর্মজীবন১৯২৭ – ১৯৫৩
উল্লেখযোগ্য রচনাবলীসাতটি তারার তিমির, বনলতা সেন, রূপসী বাংলা
দাম্পত্য সঙ্গী (Spouse)লাবণ্য গুপ্ত 
পুরস্কাররবীন্দ্র-স্মৃতি পুরস্কার (১৯৫২) 

সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৫) 

আন্দোলনআধুনিক বাংলা কবিতা
শিক্ষাস্নাতকোত্তর ইংরেজি সাহিত্য
মৃত্যু (Death)১৪ অক্টোবর ১৯৫৪ (14th October 1954)

জীবনানন্দ দাশের জন্ম – Jibanananda Das Birthday :

 জীবনানন্দের জন্মকাল ১৮৯৯ খ্রীঃ ১৭ ই ফেব্রুয়ারী , বরিশালের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে । 

জীবনানন্দ দাশের পিতামাতা – Jibanananda Das’s Parents :

তার পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ ও মাতার নাম কুসুমকুমারী । তার মা সেই যুগে “ বিন্দু কবিতা রচনা করে কবি খ্যাতি লাভ করেছিলেন । তার মায়ের বিখ্যাত একটি কবিতা হল— “ আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”

জীবনানন্দ দাশের অনুপ্রেরণা – Jibanananda Das’s Motivation :

 মায়ের সাহিত্য প্রতিভাই জীবনানন্দকে সাহিত্য সৃষ্টি সাধনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলাে । তার কাব্য প্রতিভা মূলত বিকাশ লাভ করেছিলাে মায়েরই প্রযত্নে ও উৎসাহে । মায়ের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন এক গভীর অনুভূতি যা তার গলায় ব্রাহ্মসঙ্গীতের মধ্যে ফুটে উঠত । 

জীবনানন্দ দাশের শৈশবকাল – Jibanananda Das’s Childhood :

 জীবনানন্দের বাল্যকালে অনাবিল আনন্দ ও প্রীতময় পরিবেশে প্রথম শিক্ষা শুরু হয় । তারই ফলে বাল্যবয়স থেকেই রূপময় প্রকৃতির প্রতি তাঁর কবিমন আকৃষ্ট হয়েছিল । সেই ভােরের নির্মল আকাশ , শিশির ভেজা ঘাস , ধানের ক্ষেতে বয়ে যাওয়া উদ্দাম হাওয়ার মাতন , সেই নদীর চরের চিল – ডাকা বিষগ্ন দুপুর , জলে – ভাসা নৌকোর তন্ময় গলুই — সবকিছু , বলা যায় প্রকৃতির সমস্ত বর্ণ , বৈচিত্র্য জীবনানন্দের কাছে এক অজানা সুদূরের হাতছানি হয়ে ধরা দিত ।

 ছেলেবেলায় অনেক সহচরদের কাছ থেকে তিনি নানা গাছগাছালির নাম শুনেছিলেন এবং এরই সাথে পরিচিত হয়েছিলেন নানা লতাপাতা ও পাখির সঙ্গে । তার পরবর্তীকালের কবিতায় এসমঞ্জ কিছুর উল্লেখ পাওয়া যায় । জীবনানন্দ কবিতা উৎস – পরিচিত বিচার করতে গিয়ে যে সমস্ত উপাদানের উল্লেখ করেছেন তাতে তার শৈশব ও কৈশােরে প্রাকৃতিক এবং কবি মানসের বিচরণক্ষেত্র স্পষ্টভাবে ধরা পরেছে । 

 ছেলেবেলায় উপনিষদ পাঠ ও ব্রাহ্মসঙ্গীত শুনে শুনে জীবনানন্দের কবি মানস গড়ে উঠেছিলাে । এরই সাথে এক অকারণ বিষয়াতায় ভরে উঠতাে তার মন । রূপ থেকে অরূপের সন্ধানে বিচরণশীল মন নিয়ে তার স্কুলের খাতায় নানা কবিতা লিখে নিজেকে ভরিয়ে রাখতেন এরই সাথে লাভ করত অবাধ মুক্তি । তিনি একাকী ভাবে স্বীয় ভাবনা চেতনায় ডুবে থাকতেন ।

জীবনানন্দ দাশের শিক্ষাজীবন – Jibanananda Das’s Education Life :

 জীবনানন্দের স্কুল – কলেজ শিক্ষা শুরু হয় ব্রজমােহন স্কুল ও ব্রজমােহন কলেজে । এই কলেজ থেকে আইএ পাশ করে তিনি কোলকাতায় আসেন । ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে । ইংরাজী । সাহিত্যের সাম্মানিক ছাত্র হিসাবে ১৯১৯ খ্রীঃ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন । পরে ১৯২১ খ্রীঃ এম . এ পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনারকাজ দিয়ে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন ।

জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ – Jibanananda Das’s first Poetry released :

 ১৯২২ খ্রীঃ তিনি সিটি কলেজের অধ্যাপনা শুরু করেন এবং ঝড়া পালক কাব্যগ্রন্থটি এই সময়ে প্রথম প্রকাশিত হয় । 

 এছাড়া তিনি কোলকাতায় নানা সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা রচনা শুরু করেন।তার সমস্ত কবিতাই পাঠক সমাজে সমাদৃত হয় । 

জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ সমুহ – Jibanananda Das’s Poetry :

 জীবনানন্দের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক । পরে একে একে প্রকাশিত হয় ধূসর পান্ডুলিপি , সাতটি তারার তিমির , রূপসী বাংলা , মহাপৃথিবী , বেলা অবেলা কাল বেলা প্রভৃতি । তার রচিত বনলতা সন আধুনিককালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ । 

 জীবনানন্দের কাব্যের ইতিহাস চেতনা , নিঃসঙ্গ বিষন্নতা এবং অবশ্যই বিপন্ন মানবতার ব্যথা তার স্বকীয় বিশিষ্টতা নিয়ে স্থান লাভ করেছিলেন । 

 জীবনানন্দের প্রবন্ধ গ্রন্থ কবিতার কথা , জীবনানন্দ দাশের গল্প উপন্যাস ‘ মাল্যবান ও সতীর্থ তার সাহিত্যধারার উল্লেখযােগ্য সংযোজন । 


জীবনানন্দ দাশের পুরস্কার – Jibanananda Das’s Prizes :

  জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য রচনার জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন । ববাহোত্তরকালের একবিশিষ্টকবি ছিলেন জীবনানন্দ দাশ । বাংলা কাব্য সাহিত্যে তার প্রভাব সর্বাধিক । 

  বাংলা সাহিত্যে তার প্রথম আবির্ভাবের সময় বহু বিতর্কিত কবি ছিলেন । কারণ তার সব কবিতার উপমা , চিত্রকলা এতই প্রথাবিরােধী ছিলাে যে তা রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কাব্যের ঐতিহ্যের পথে ছিলাে এক বিরাট ব্যাতিক্রম । 

 জীবনানন্দের কবিতায় মনন অপেক্ষা আবেগের প্রাধান্য বেশী থাকলেও তার কবিতায় ইতিহাস – ভূগােল সমন্বিত এক বুদ্ধিদীপ্ত চেতনার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় । 

 জীবনানন্দের কাব্যের বিষয়বস্তুহল প্রকৃতি ও প্রেম । এই কাব্যকলার অসাধারণ তত্ত্বই তাঁকে বৈচিত্র্য ও গভীরতা দান করেছে । এছাড়াও তার বিভিন্ন গ্রন্থে শিল্পীশৈলী ও বর্ণাঢ্য চিত্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃতি ও প্রেমের নানা দিক উদ্ঘাটিত হয়েছে । 

জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যকৃতি : 

 আধুনিক কবিতার ক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশ এক স্বতন্ত্র কবি । তাঁর কাব্যকলার ক্ষেত্রে এই স্বাতন্ত্রতার জন্যই বাংলা সাহিত্যে তার অবদান অনন্য । তিনি ছিলেন এক রােমান্টিক কবি । বাল্যবয়স থেকেই রূপময় প্রকৃতির প্রতি তার কবিমন আকৃষ্ট হয়েছিল । ভােরের নির্মল । আকাশ , শিশির ভেজা ঘাস , ধানের ক্ষেতে উদ্দাম হাওয়ার মাতন , নদীর চরের চিল – ডাকা বিষন্ন দুপুর , জলে – ভাসা নৌকোর তময় গলুই —সবকিছু , প্রকৃতির সব বর্ণ- বৈচিত্র্য জীবনানন্দের কাছে এক অজানা সুদূরের হাতছানি হয়ে ধরা দিত ।

 এই রূপমুগ্ধ কবির কণ্ঠে তাই আমরা শুনতে পেয়েছিলাম –

“ বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি , তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর । ” 

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু – Jibanananda Das’s Death :

 ১৯৫৪ খ্রীঃ ১৪ ই অক্টোবর দক্ষিণ কোলকাতায় একট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন ও ২২ শে অক্টোবর তার জীবনদীপ নির্বাপিত হয় ।

জীবনানন্দ দাশের জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Jibanananda Das’s Biography in Bengali (FAQ) :

  1. জীবনানন্দ দাশের জন্ম কবে হয় ?

উ:- ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ সালে ।

  1. জীবনানন্দ দাশের পিতার নাম কী ? 

উ:- সত্যানন্দ দাশ ।

  1. জীবনানন্দ দাশের মাতার নাম কী ?

উ:- কুসুমকুমারী দাশ ।

  1. জীবনানন্দ দাশের স্ত্রীর নাম কী ?

উ:- লাবণ্য গুপ্ত ।

  1. জীবনানন্দ দাশের পুরস্কার গুলি কী কী ?

উ:- রবীন্দ্র পুরস্কার ও সাহিত্য আকাদেমি। 

  1. কত সালে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পান ?

উ:- ১৯৫২ সালে ।

  1. জীবনানন্দ দাশের রচনাবলীর নাম কী ?

উ:- সাতটি তারার তিমির, বনলতা সেন, রূপসী বাংলা।

  1. জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ কী ?

উ:- ঝড়া পালক ।

  1. ঝড়া পালক কত সালে প্রকাশিত হয় ?

উ:- ১৯২২ সালে ।

  1. জীবনানন্দ দাশ কত সালে মারা যান ?

উ:- ১৯৫৪ সালে ১৪ অক্টোবর ।